স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লকডাউনের মধ্যে কার্গো বিমানে দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছেন তিনি। বিহারের বিজেপির মুখপাত্র নিখিল আনন্দ-এর এই অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ভোট স্ট্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোর। কার্গো বিমানে তাঁর সফর প্রমাণ করতে না পারলে ওই বিজেপি নেতাকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছেন পিকে।

বিহারের বিজেপির মুখপাত্র নিখিল আনন্দ বলেছেন, “প্রশান্ত কিশোর সরকারি অফিসার নন, বিমানের ক্রু মেম্বার নন, চিকিৎসকও নন, তাহলে কার অনুমতিতে লকডাউনে উনি কলকাতায় গেলেন?” তাঁর প্রশ্ন, কেন এটাকে বেআইনি কাজ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না?

এব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যিমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সমালোচনা করেছেন বিহারের বিজেপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার সবরকম সহযোগিতা করার পরও উনি নিজের রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ।” নিখিল আনন্দ-এর বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের ইমেজ কী ভাবে ভাল রাখা যায় তার কৌশল জানতেই প্রশান্ত কিশোরকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন।

আগেই জেডিইউ নেতা অজয় অলোক বলেছেন, “প্রশান্ত কিশোরের লজ্জা হওয়া উচিৎ। লকডাউনের লঙ্ঘন করে তিনি দিল্লি থেকে কলকাতা চলে গেছেন। কার্গো বিমানে জরুরি বস্তু যায়, পিকে কি করে ওই বিমানে চলে গেলো?” অজয় অলোক এই বিষয়ে একটি ট্যুইটও করেছেন।

যদিও প্রশান্ত কিশোর এই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। হিন্দুস্থান টাইমসে ফোনে তিনি জানিয়েছেন, “১৯ মার্চের পর আমি কোনও বিমানবন্দরেই যাইনি। কিন্তু কারোর কাছে যদি এমন কোনও তথ্য থাকে যা এর বিপরীত, তার উচিত এই সময়ই সেটা জনসমক্ষে আনা।”

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, “নিখিল আনন্দ যেটা বলছেন সেটা উনি প্রমান করুন। আমি কোন বিমানে গিয়েছি, তার সব বিস্তারিত তথ্য দিন। যদি উনি সব দিতে পারেন তাহলে পাবলিক লাইফ থেকে আমি অবসর নেব। আর যদি না পারেন তাহলে ক্ষমা চাইতে হবে।”

জানা গিয়েছে, লকডাউনে দিল্লিতেই ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। সামনেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু এদিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দল ও কেন্দ্রের সমালোচনার মুখে পড়ে পিকের শরণাপন্ন হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ‘ক্রাইসিসি ম্যানেজার’ পিকে-কে জরুরি তলব করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী।

দলীয় সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাক পেয়েই কলকাতায় আসেন প্রশান্ত কিশোর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে বিজেপির আক্রমণ প্রতিহত করার রণকৌশল নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে দুজনের মধ্যে। এদিকে, এই খবরের সত্যতা যাচাই করতে তিনটি বিমানবিন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা তাদের সূত্র মারফত জানতে পেরেছে, কলকাতা, দিল্লি ও গুয়াহাটি-এই তিনটি শহরের বিমানবন্দরের গত তিনদিনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তিন বিমানবন্দর থেকে শেষ ৭২ ঘন্টায় মোট ন’টা কার্গো বিমান(পণ্যবাহী বিমান) দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছিল। ওই বিমানগুলো স্পাইস জেট, এয়ার ইন্ডিয়া ও ব্লু ডার্ট-এর ছিল। ওই বিমানে প্রশান্ত কিশোর কলকাতায় এসেছে কিনা সেটাই দেখছে কেন্দ্র।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV