হাওড়া: মুকুল রায়কে মেড ইন চায়না চাণক্য বলে কটাক্ষ করেছিলেন রাজ্য যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বলেছিলেন ‘নিজের পাড়ার দশজন কাউন্সিলরকে যিনি ধরে রাখতে পারেন না, তিনি আবার একশো সাতজন বিধায়কের দলবদলের কথা বলছেন। নৈতিকতা থাকলে অন্য দলের বিধায়কের সঙ্গেই উনি কথা বলতেন না।’

অভিষেকের সেই কথারই রবিবার জবাব দিলেন ‘চাণক্য’ মুকুল রায়৷ রবিবার সকালে হাওড়ায় এক অনুষ্ঠানে এসে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায় বলেন, “আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করুন প্রশান্ত কিশোর কে? উনি কোথা থেকে জন্মেছেন? এই মুহুর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির নাম কি? তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির নাম কি এখন প্রশান্ত কিশোর? এটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগে জিজ্ঞেস করুন।”

এদিন কাঁচরাপাড়া হালিশহরের ফের দলবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এদের বাদ দিয়েই তো আমরা লোকসভা ভোটে জিতেছিলাম। আমরা গুন্ডাগিরি করিনা। গুন্ডাগিরি করার অভ্যাস আমাদের নেই। দলে একটা রণনীতি থাকে। একটা রণকৌশল থাকে। বিজেপির রণনীতিতে গুণ্ডাগিরি নেই৷”

আরও পড়ুন : মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন নভজ্যোত সিং সিধু

প্রসঙ্গত, শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল রায়কে কটাক্ষ করে বলেছিলেন ভয় আর সন্ত্রাসের মুখে যারা তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তারা আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসছেন৷ দলবদলের জন্য যাকে চাণক্য বলা হচ্ছিল দেখা গেছে সেই চাণক্য আসলে মেড ইন চায়না।

এপ্রসঙ্গে এদিন মুকুল রায় বলেন, ১০৭ জন বিধায়ক তার সঙ্গে যোগাযোগে আছেন। তারা পার্টিতে যোগ দিতে চাইছেন। দলীয় নেতৃত্বের কাছে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বই এখন বিবেচনা করবে কি করা যাবে। হাওড়ার বাকসাড়ায় তৃণমূল কর্মীকে গুলি করে খুনের চেষ্টা প্রসঙ্গে মুকুল রায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “নীতি এবং আদর্শের প্রশ্নে বিজেপি দল এক জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারা গুন্ডাগিরি করে না। গুন্ডাগিরিকে প্রশ্রয় দেয় না।”

এদিন সকালে হাওড়া জেলা বিজেপি শিক্ষক সেলের তরফে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে অনেকে বিজেপিতে যোগদান করেন। এদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়। মুকুল রায় ছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন হাওড়া সদর বিজেপি সভাপতি সুরজিৎ সাহা, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, হাওড়া জেলা শিক্ষক সেলের আহ্বায়ক শেখর মন্ডল, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিং।