পাটনা: এনডিএতে যোগদানের পরও বিহারের মহাগঠবন্ধনের সঙ্গে ফের জোট করার চেষ্টা করছিলেন জেডি(ইউ) প্রধান নীতিশ কুমার। এই বার্তা দিয়ে ৫ বার নিজের সুহৃদ কিশোরকেও পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিছু দিন আগে এই অভিযোগই করেছিলেন আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব। এবার সরাসরি সেই অভিযোগের বিরুদ্ধে আঙুল তুললেন খোদ নির্বাচন কৌশলী তথা জেডি(ইউ)-র সহ-সভাপতি প্রশান্ত কিশোর। এ বিষয়ে প্রকাশ্যে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিলেন আরজেডি প্রধানের দিকে।

লালু সম্প্রতি তার আত্মজীবনী প্রকাশ করেছেন, “গোপালগঞ্জ থেকে রাইসিনা”। যার সহ-লেখক প্রাক্তন সাংবাদিক তথা বর্তমান শিক্ষক নলিন ভার্মা। তিনিও লালুর কথায় সায় দিয়ে অভিযোগ করেছেন, এনডিএ যোগদানের পরও জেডি (ইউ) প্রধান নিতিশ কুমার ফের বিহারের মহাগঠবন্ধনের ছেঁড়া সুতো বাঁধতে চেয়েছিলেন। এছাড়া, এই বার্তা দিয়ে ৫ বার নিজের সুহৃদ কিশোরকে পাঠিয়েওছিলেন।

বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবরি দেবী শুক্রবার দাবি করেছেন, নির্বাচনী কৌশলবিদ তার স্বামী লালু প্রসাদের সাথে দেখা করেছেন। তাকে আরজেডি ও নিতিশ কুমারের জেডি (ইউ)র একত্রীকরণের পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে লোকসভা নির্বাচনে এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই প্রার্থী দেওয়া যায়। কিশোরের বক্তব্যকে “স্পষ্ট মিথ্যা” বলে উল্লেখ করে রাবরি দেবী এ প্রসঙ্গে বলেন, ” আমি ভীষণ রেগে গিয়ে তাকে বিদায় জানাতে বলেছিলাম কারণ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমারের বিশ্বাসঘাতকতার পর তার ওপর আর বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই। “

তিনি আরও বলেন, ” আমাদের সমস্ত সহকর্মী এবং নিরাপত্তা রক্ষীরা এই ঘটনার সাক্ষী। তিনি আমাদের সঙ্গে অন্তত পাঁচবার বসেছেন এই নিয়ে। কিশোরকে প্রস্তাব পাঠানোর নেপথ্যে নিতিশ। আসুন আমরা উভয় পক্ষকে একত্রিত করি এবং লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী দিই। ‘ প্রকাশ্য দিবালোকেই এসেছেন তিনি, রাতের অন্ধকারে আসেননি। “

কিন্তু এই অভিযোগ সাফ অস্বীকার করেছেন প্রশান্ত। শনিবার সকালে টুইট করে কিশোর লিখেছেন, ” যারা জেলবন্দী বা জন পরিষেবামূলক দপ্তরগুলির অপব্যবহার করেন অথবা টাকা কেলেঙ্কারির দায়ে অভিযুক্ত, তারা আবার সত্য প্রকাশের দাবি করছেন! ” অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টা সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরে তার ফয়সালা করার খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন লালুকে।