সুভাষ বৈদ্য,কলকাতা: সম্প্রতি বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সব্যসাচী দত্ত৷ তারই ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ প্রসেনজিৎ সর্দার৷ সোমবার মেয়র পারিষদ পদে ইস্তফা দিলেন তিনি৷ ইস্তফার পর বিস্ফোরক সদ্য প্রাক্তন মেয়র পারিষদ৷

প্রসেনজিৎ সর্দার জানান, মেয়র পারিষদ চেয়ারটা কাজ করার পক্ষে অনেক বাধা সৃষ্টি করছিল৷ নিজের ওয়ার্ডে সময় দিতে পারছিলাম না৷ এবং মানুষের সঙ্গে থাকতে পারছিলাম না৷ তাই পদত্যাগ করেছি৷ এবার ওয়ার্ড অফিসে বেশি সময় দিতে পারব৷ তাতে জনসংযোগ বাড়ানো যাবে৷ কারণ সামনেই ভোট রয়েছে৷ এছাড়া ওয়ার্ডের উন্নয়নমূলক কাজগুলোও ভালভাবে দেখাশোনা করতে পারছিলাম না৷ সেই দিকে নজর দিতে পারব৷

 

দাদা সব্যসাচী দত্ত পুরসভায় মেয়র পদে না থাকলে যে তিনিও পুরসভার কোনও পদে থাকবেন না, তা আগেই বোঝা গিয়েছিল৷ কিছুদিন আগে তৃণমূল ভবনে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়৷ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সেই বৈঠক করেন৷ সেদিন ওই বৈঠকে গড়হাজির ছিলেন মেয়র পারিষদ প্রসেনজিৎ সর্দার৷ যদিও তিনি তখন জানিয়েছিলেন, অসুস্থতার জন্য বৈঠকে যেতে পারেননি৷

বৈঠকের কিছুদিন পর বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়৷ তা নিয়ে চলতে থাকে নাটকীয় অধ্যায়৷ বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়৷ অবশেষে পুরসভায় সাংবাদিক সম্মেলন করে বিধাননগর পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেন সব্যসাচী দত্ত৷ সেদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিকবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি৷ বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ রাজারহাট গোপালপুর অঞ্চলে বেআইনি নির্মাণ করছিল৷ তাতেই বাধা দিতে গিয়েছিলেন তিনি৷ এমনকী এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্য সরকারকে একাধিক চিঠিও পাঠানো হয়৷ কিন্তু রাজ্য সরকার কোনও ভাবে পাশে দাঁড়ায়নি৷

অন্যদিকে মেয়রহীন পুরসভার কে মেয়র হবেন তা এখনও ঠিক করতে পারেনি তৃণমূল৷ উঠে আসছে একাধিক নাম৷ মেয়র পদে শোনা যাচ্ছে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর নামও৷ এর মধ্যেই ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এর মেয়র পারিষদ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ প্রসেনজিৎ সর্দার৷ যদিও সে জানান, দল যাকেই মেয়র করবে, তাকেই মেয়র মেনে নিয়ে কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করবেন।