কলকাতা:  লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের৷ উত্তরের একাধিক লোকসভা আসন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের হাত ছাড়া হয়েছে। এরপরেই দলের এহেন বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে উত্তরবঙ্গে ছুটে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেখানে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা সেরেছেন। কেন বিপর্যয়? আলোচনা করেছেন দলের প্রথম সারির নেতৃত্বের সঙ্গে।

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে লোকসভা নির্বাচনে দলের এহেন ভরাডুবিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অবস্থায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বৈতরণী পের হতে ভোট কৌশলি’র প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ নেন তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি এখন অনেক কিছুই তাঁর কথা মতোই করছেন। এবার সেই পিকে’র রিপোর্ট বলছে, উত্তরবঙ্গে ফিরছে তৃণমূল৷

গত ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল বের হতেই দেখা যায়,উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যে তৃণমূলের খারাপ ফল হয়েছে৷ এরপরই হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে তৃণমূল৷ দায়িত্ব দেওয়া হয় ভোট কৌশলি প্রশান্ত কিশোরকে৷ শহর থেকে গ্রামে পৌঁছে যায় পিকে বাহিনী৷ পাঁচ মাসের মাথায় ওই পিকে বাহিনী প্রথম রিপোর্ট দিলো৷ সূত্রের খবর, তাতে বলা হয়েছে,উত্তরবঙ্গের হারানো মাটি ফিরে পাচ্ছে তৃণমূল৷

লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গের বিজেপির কাছে সাফ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল৷ ৮টি আসনের মধ্যে সাতটিতেই জিতেছে গেরুয়া শিবির৷ এরপরই হারের কারণ খুঁজে বের করতে দলের ভিতর ‘তদন্ত’ হয়৷ সেই তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে উত্তরবঙ্গে বেশ কিছু সাংগঠনিক রদবদলও করা হয়েছে৷ পিকে বাহিনীও তৃণমূলস্তরে কথা বলে জানার চেষ্টা করে,কোথায় দলের খামতি রয়েছে৷ তারপর পিকে বাহিনী দলীয় নেতা কর্মীদের পরামর্শ দেন৷ তার ফলে নাকি অনেকটাই মেরামতির করা গিয়েছে৷

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরই তৃণমূল বুঝে গিয়েছে জাহাজ তাঁদের টলোমলো। তাই প্রশান্ত কিশোরের মত একজন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞকে এনে দলের কৌশল ঠিক করতে মরিয়া দল। কাট মানি ফেরৎ-এর মত কৌশলের পর এবার তাই জনসংযোগ বাড়াতে নয়া কৌশল অবলম্বন করছে তাঁরা। আর সেই নতুন কৌশলের নাম ‘দিদিকে বলো।’

বিরোধীদের নেগেটিভ প্রচার যদিও তৃণমূলকে দমাতে পারেনি৷ পিকের উপর তারা পুরোপুরি ভরসা রাখছে৷ উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালেও দলকে ছাপিয়ে নেতাকে মুখ করে তুলেছিলেন প্রশান্ত। সেবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই ছিলেন বিজেপির মুখ, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। বিজেপির স্লোগান ছিল, ‘আবকি বার মোদী সরকার’। সেই ছকেই এবার বাংলায় চলছেন প্রশান্ত কিশোর। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মেকি ইমেজ মানুষ আদৌ ভালভাবে নেবে কিনা তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে৷