নয়াদিল্লি: নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর অন্তর্ধান নিয়ে রহস্য রয়েই গিয়েছে। কেউ কেউ বলেন, গুমনামি বাবার ছদ্মবেশে নাকি আবির্ভাবও হয়েছিল তাঁর। বছর কয়েক আগে প্রকাশ্যে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাহাই কমিশন জানিয়েছিল, ১৯৮০ সালে কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রী থাকাকালীন সেই গুমনামি বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলেন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

রবীন্দ্র শুক্লা নামে এক ব্যক্তি, যিনি সেই গুমনামি বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হতে দেখেছিলেন গুপ্তার ঘাটে, তিনিই কমিশনে একথা জানিয়েছিলেন। ২০১৬-তে সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। অক্টোবরে নবরাত্রিতে তাঁর সঙ্গে প্রণব মুখোপাধ্যায় দেখা করতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

শুক্লা কমিশনে বলেছিলেন, তিনি যতদূর মনে করতে পারেন, সেটা ছিল ১৯৮১-৮২ সালের ঘটনা। গুমনামি বাবা তাঁকে বলেছিলেন, এক বাঙালি ভদ্রলোকের সঙ্গ দিতে। সেইমত শুক্লা নিজের মোটর সাইকেলে চালিয়ে বাজারে নিয়ে যান। সেখানে কানহাইয়া লাল বালদেভের দোকান থেকে কাপড়ও কেনেন ওই বাঙালি ব্যক্তি। এরপর তাঁকে বিড়লা ধরমশালায় নামিয়ে দেন শুক্লা। এরপর থেকে অনেক সময় তিনি কাটিয়েছিলেন ওই বাঙালি বাবুর সঙ্গে। পরে যখন তাঁকেই মন্ত্রী আর পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতি হতে দেখেন, তখন তাঁর মুখটা স্পষ্ট মনে করতে পারেন এই ব্যক্তি। সাহাই কমিশনে লিখিতভাবে একথা জানিয়েছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৮০-র জানুয়ারি থেকে ৮২-র জানুয়ারি পর্যন্ত স্টিল ও খনিমন্ত্রী ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। এরপর ৮৪-র ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর পদে ছিলেন তিনি।

রবীন্দ্র শুক্লা আরও জানিয়েছিলেন, জীবিত থাকতে কখনও গুমনামি বাবাকে স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়নি তাঁর। কিন্তু পা ছুঁয়ে প্রণাম করার সৌভাগ্য হয়েছিল। শেষকৃত্যের সময়ই বাবার মুখটা প্রথম দেখেন তিনি। সুভাষ চন্দ্রের সঙ্গে তাঁর মুখের অসম্ভব মিল রয়েছে।

উল্লেখ্য কিছুদিন আগেই ‘গুমনামি’ নামে একটি ছবি তৈরি করেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। সেই ছবি নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। মুখার্জি কমিশনের তথ্যের উপর নির্ভর করে এই ছবি তৈরি করলেও পরিচালক সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়কে বার বার নিশানা করেন চন্দ্রকুমার বসু-সহ বসু পরিবারের কয়েকজন সদস্য। নেতাজির জীবন ও কাজকে অবমাননা করার অভিযোগও এনেছেন তাঁরা। যদিও সৃজিৎ বার বার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ছবিতে অন্তিম কোনও সিদ্ধান্ত দেখানো হয়নি। বরং মুখার্জির কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তিনটি থিওরিকেই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আর তার জন্য পরিচালককে যথেষ্ট গবেষণাও করতে হয়েছে।