রাঁচি: রবিবার রাঁচিতে হেমন্ত সোরেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। এই খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়। কোনও মুখ্যমন্ত্রীর শপথে এর আগে শেষ কবে কোনও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে দেখা গিয়েছে তা মনে করতে পারছেন না কেউই।

যদি সত্যিই রবিবার সোরেনের শপথ-মঞ্চে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে দেখা যায়, তবে এই ঘটনা যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সীমাহীন কৌতূহলের জন্ম দেবে তা বলাই বাহুল্য। এমনকী রবিবার প্রণব মুখোপাধ্যায় সত্যিই রাঁচিতে হাজির থাকলে তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা নতুন করে আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রবিবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা হেমন্ত সোরেন। হেমন্ত সোরেনের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথের মঞ্চই বিরোধী জোটের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রবিবার হেমন্তের শপথে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে।

একইসঙ্গে আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তেজস্বী যাদবরাও। তাঁরা প্রত্যেকেই রবিবার হেমন্ত সোরেনের শপথে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। এরই পাশাপাশি সোরেনের শপথে উপস্থিত থাকতে পারেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেও। একইসঙ্গে হেমন্ত সোরেনের তরফে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে একটি সূত্রের খবর।

এর আগে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। রবিবার হেমন্ত সোরেনের শপথে যদি সত্যিই প্রণব মুখোপাধ্যায় উপস্থিত হন তবে তা কেন্দ্র-বিরোধী বিরোধী জোটের যে বড়সড় সাফল্য হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।

নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে এমনিতেই জাতীয় রাজনীতিতে বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে বিজেপি। কেন্দ্রীয় আইনের প্রতিবাদে প্রতিদিনই মুখ খুলছেন কেউ না কেউ। এমনকী বর্তমান পরিস্থিতিতে শরিক দল নিয়েও দুশ্চিন্তার শেষ নেই বিজেপির। ইতিমধ্যেই বিহারে বেঁকে বসেছে এনডিএ-র অন্যতম শরিক দল জেডিইউ। নীতিশ কুমারের দল স্পষ্ট জানিয়েছে, এনপিআর নিয়ে যতক্ষণ না স্পষ্টভাবে কেন্দ্রের তরফে কিছু জানানো হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত বিহারে এনপিআর লাগু করা হবে না। এরই পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও এনপিআরের কাজ স্থগিত রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেরলের মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন তাঁর রাজ্যে এনপিআর লাগু করা হবে না।

এই পরিস্থিতিতে রবিবার হেমন্ত সোরেনের শপথের মঞ্চে কেন্দ্র বিরোধী দলগুলি ফের নতুন করে ঘুঁটি সাজানোর চেষ্টা করছে। কেন্দ্র বিরোধিতায় নতুন করে আন্দোলনে নামার রূপরেখাও সম্ভবত তৈরি হতে চলেছে আগামিকালই।