স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: করোনা আবহে একের পর এক হেভিওয়েট আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এবার আক্রন্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও বেশ সঙ্কটজনক বলেই জানা গিয়েছে। বর্তমানে তিনি দিল্লির সেনা হাসপাতালে ভেন্টিলনে রয়েছেন। গোটা দেশ তাঁর আরোগ্য কামনায়।

প্রিয়জনের অসুস্থতার খবরে মন ভালো নেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলবাসীর। একটা সময়ে রাজনৈতিক জীবনের হাতে খড়ি হয়েছিল এই মহিষাদল গ্রামের হাত ধরেই। আর তাই প্রিয়জনের অসুস্থতার খবরে দ্রুত আরোগ্য কামনায় বুধবার সকাল থেকে পূজা-পাঠ চললো মহিষাদলের প্রজ্ঞানানন্দে।

বাড়ি বীরভূমের কীর্ণাহারে হলেও জীবনের একাধিক মুহূর্ত কাটিয়েছেন মহিষাদলের এই প্রজ্ঞানানন্দে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী সুশীল কুমার ধাড়ার হাত ধরেই মূল রাজনৈতিক জীবনে হাতে খড়ি। জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরেই তিনি প্রথম সংসদও হয়েছিলেন।

প্রিয় ভালোবাসার মানুষদের মধ্যে তাঁর অন্যতম ছিলেন সুশীল কুমার ধাড়া। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর অনুপ্রেরণাতেই অনুপ্রাণিত। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় রাজনৈতিক জীবনে পা রেখেছিলেন। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের এক অন্যতম গুরুও বলা চলে মহিষাদলের সুশীল কুমার ধাড়াকে।

২০১১ সালে সুশীলবাবুর মৃত্যুর খবর পেয়ে বিদেশমন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাতিল করে মহিষাদলের প্রজ্ঞানানন্দে এসেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও মহিষাদলের সঙ্গে একাধিক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের। এলাকার সকলের কাছে তিনি এক অন্যতম প্রিয় মানুষ। বর্তমানে তার অসুস্থতার খবরে মন ভালো নেই মহিষাদলবাসীর।

দ্রুত আরগ্য কামনাতেই বুধবার সকাল থেকে পূজার্চনার আয়োজন করলো প্রজ্ঞানানন্দ স্মৃতি রক্ষা সমিতির সদস্যরা। যুবক থেকে বয়স্ক সকলের কামনা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার একবার মহিষাদলে আসুক সকলের প্রিয় প্রণব মুখোপাধ্যায়।

প্রজ্ঞানানন্দ স্মৃতি রক্ষা সমিতির সদস্য সন্তোষ গোস্বামী বলেন, “প্রণব মুখোপাধ্যায় নামে আমরা সকলেই উদ্বুদ্ধ হই। আমরা মনে করি তিনি মহিষাদলের মানুষ। আমরা তাঁর অসুস্থতার খবরে খুবই ব‍্যাথিত। আমরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”

পাশাপাশি সমিতির অন্যতম বর্ষীয়ান শীতল প্রসাদ বাগ জানান, আমাদের নেতা সুশীল কুমার ধাড়া জানান, ছাত্রদের নিয়ে বৈঠক করতে প্রনব মুখোপাধ্যায় নামে একজন মহিষাদলে আসবে তার জন্য বৈঠকের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই নির্দেশ পাওয়ার পর বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

এলাকার বহু যুবক উপস্থিত ছিলো। সেখানেই প্রনববাবু প্রথম ছাত্রদের মুখোমুখি হয়ে বক্তব্য পেশ করে ছিলেন।তার পর থেকে একের পর এক জয় করে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।আজ তিনি আমাদের দেশের গর্ব। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুক এই কামনা জানাই আমরা।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা