দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ১৯৭৫ সাল। দেশে জরুরি অবস্থা। প্রতিবাদে সেই সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা প্রকাশ জাভরেকর। প্রায় ৪৫ বছর বাদে কলকাতায় সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে প্রকাশ বললেন, “মমতাজি, সেদিন ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার বিরুধ্যে লড়েছিলাম। জনতা জরুরি অবস্থাকে ছুঁড়ে ফেলেছিল। সেই জনতা আপনার জরুরি অবস্থাকেও ছুঁড়ে ফেলবে।”

পুলিশের গাড়িতে করে সিবিআই অফিসারদের থানায় নিয়ে যাওয়া এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের সপক্ষে মেট্রো চ্যানেলে মমতার ধর্ণাকে বিজেপি রাজ্যে ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ হিসেবেই দেখছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভা আটকে যাওয়ার ঘটনায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর ক্ষোভের মাত্রা বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে সুপার ইমার্জেন্সির কথাই সারা দেশে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বিজেপি।

সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে জাভরেকর বলেন, অমিত শহ’র সভা জনপ্রিয়তা দেখে রাজ্য সরকারের মাথার ঠিক নেই। পশ্চিমবঙ্গে যাত্রা করার অনুমতি নেই, সভা করার অনুমতি নেই, যাঁর জমিতে সভা করা হচ্ছে, যে প্যান্ডেল বাঁধছে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ, রাজ্যে হেলিকপ্টার নামানোর অনুমতি নেই , দুর্নীতির তদন্ত করে যাবে না। এটা জরুরি অবস্থা ছাড়া আর কী …।

জাভরেকর বক্তব্য, এই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১০০ জনের বেশি মানুষ খুন হলো। তৃণমূল মনোনয়ন জমা দিতে দিলো না, যেখানে মনোনয়ন জমা পড়লো, ভোট হতে দিলো না, যেখানে ভোট হলো গণনায় কারচুপি করার চেষ্টা করল, ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতলো শাসক দল। ৭৫ সালে জরুরি অবস্থা আমরা দেখেছি। ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা মানুষ গ্রহণ করে নি। ছুঁড়ে ফেলেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও মানুষ ছুঁড়ে ফেলবে। “৭৫ এ লড়েছিলাম, গ্রেফতার হয়েছিলাম। এখানেও লড়বো। পশ্চিমবঙ্গকে জরুরি অবস্থা মুক্ত করবো।” – শেষ করলেন জাভরেকর।