মুম্বই: তিনি হলেন ‘হতভাগা’ ক্রিকেটার৷ কেরিয়ারের শেষ টেস্টে ১০টি উইকেট নিয়েও আর টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি৷ সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে ২০১৩ ওয়াংখেড়ে কেরিয়ারের শেষ টেস্ট খেলেছেন৷ ৩৩ বছরের এই বাঁ-হাতি স্পিনার শুক্রবার আন্তর্জাতিক ও প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটকে গুডবাই জানালেন৷ শুধু তাই নয়, টেস্ট ক্যাপটা পেয়েছিলেন সচিনের হাত থেকেই৷

১৪ নভেম্বর, ২০১৩ ওয়াংখেড়েয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ফেয়ারওয়েল টেস্ট খেলেছিলেন ‘ক্রিকেটঈশ্বর’৷ আর সেই টেস্টে দুই ইনিংসে পাঁচটি করে উইকেট তুলে নিয়েছিলেন প্রজ্ঞান ওঝা৷ বল হাতে সবচেয়ে সফল ভারতীয় বোলার৷ ১০ উইকেট নিয়ে জুটে ছিল ম্যাচের সেরা পুরস্কার৷ কিন্তু তার পরে আর টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি৷ শুধু টেস্ট নয়, ভারতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যায়নি টিম ইন্ডিয়ার এই বাঁ-হাতি স্পিনারকে৷ ১৩ বছরের প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটে দু’টি মরশুম বাংলার হয়ে খেলেছেন ওঝা৷

এদিন নিজের টুইটারে অবসর ঘোষণা করেন ওঝা৷ অবসর ঘোষণার কোনও কারণ ব্যাখ্যা না-করে তিনি লেখেন, ‘আমি এই চিঠি লিখছি, সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক ও প্রথমশ্রেণির ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণার কথা জানাতে৷ এখন থেকেই আমার এই সিদ্ধান্ত কার্যকরী করা হোক৷ ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ স্তরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা যে কোনও তরুণ ক্রিকেটারের স্বপ্ন৷ আমিও ব্যক্তিক্রম ছিলাম না৷ আমার স্বপ্ন সত্যি হওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি৷ দেশের মানুষের কাছ থেকে যা ভালোবাসা পেয়েছি, তার জন্য ধন্যবাদ৷’

০ভারতীয় দলের হয়ে মাত্র বছর চারেক খেলার সুযোগ হয়েছিল ওঝা’র৷ ২০০৯-এ কানপুরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল এই বাঁ-হাতি স্পিনারের৷ আর শেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৩ মুম্বইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে৷ চার বছরে দেশের হয়ে মাত্র ২৪টি টেস্টে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ওঝা৷ নিয়েছেন ১১৩টি উইকেট৷ সেরা বোলিং ৪৭ রানে ৬ উইকেট৷

টেস্টের আগে অবশ্য ওয়ান ডে এবং টি-২০ অভিষেক হয়েছিল ওঝা’র৷ ২০০৮-এ করাচিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে অভিষেক হয়েছিল তাঁর৷ দেশের হয়ে মোট ১৮টি ওয়ান ডে খেলেছেন৷ নিয়েছেন ২১টি উইকেট৷ আর আন্তর্জাতিক টি-২০ অভিষেক হয় ২০০৯-এ নটিংহ্যামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে৷ দেশের হয়ে ৬টি টি-২০ ম্যাচে তাঁর উইকেট সংখ্যা ১০টি৷ কেরিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসের ক্লাবে প্রজ্ঞানকে স্বাগত জানিয়েছেন সচিন৷