স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এই ধরণের ট্রেড ইউনিয়ন নেতা আবার ফিরে আসবেন কিনা জানিনা। বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর প্রয়ানে শোকপ্রকাশ করে এই মন্তব্যই করলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য।

করোনা আবহে কলকাতা হারিয়েছে তাঁদের প্রিয় ছোড়দা-সোমেন মিত্রকেও। এবার করোনা কেড়ে নিল ছয়ের দশকের ছাত্র রাজনীতির আরেক দাপুটে নেতা শ্যামল চক্রবর্তীকে।

রাজ্যের শ্রমিক নেতার মৃত্যুর পর শোকবার্তায় প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলায় ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের বড় ক্ষতি হয়ে গেল। ওনার কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। উনি খুবই আন্তরিক ছিলেন শ্রমিকদের প্রতি। কারখানা বন্ধ করে দিয়ে কখনও শ্রমিক আন্দোলন করেননি। কখনও শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে সরে আসেননি। এই ধরণের ট্রেড ইউনিয়ন নেতা আবার ফিরে আসবেন কিনা জানিনা। শ্রমিক আন্দোলনের এই মানুষটিকে আমি সম্মান জানাই। স্যালুট করি।”

শোকবার্তায় অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, “কমিউনিষ্ট নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর মৃত্যু আমাকে অত্যন্ত বেদনাহত করলো, তিনি প্রকৃত অর্থে একজন জনদরদী শ্রমিক নেতা ছিলেন। আপাদমস্তক ভদ্র ও মধুর স্বভাবের মানুষ। তাঁর স্বজন হারানো পরিবারের সকলের জন্য সমবেদনা জানাই।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে পিয়ারলেস হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শ্যামল চক্রবর্তী। করোনা আক্রান্ত হয়ে পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাঁকে। বুধবার দুপুরের পর থেকেই অবস্থার অবনতি থাকে সিটু নেতার। অবশেষে এদিন জীবনযুদ্ধে হার মানলেন ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের নেতার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

রাজ্য ক্ষমতার পালা বদলের পরও সক্রিয় রাজনীতির অংশ ছিলেন শ্যামল চক্রবর্তী। ২০১৬ সালে বাম-কংগ্রেস জোটের অন্যতম কাণ্ডারীও ছিলেন তিনি। এমনকী, ভাঙা শরীর নিয়েও আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের বিষয় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন।

শোকবার্তায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান বলেন, “রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেও সম্পর্ক অটুট ছিল। রাজ্যে বর্তমান অবস্থায় সোমেন মিত্র এবং শ্যামল চক্রবর্তীর চলে যাওয়া বাম কংগ্রেসের জোটের জন্য ক্ষতি হল। অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করে দিতেন। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জোট নিয়ে একাধিক সমস্যার ফাঁস উনি কাটিয়ে দিয়েছিলেন সহজে।”

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা