স্টাফ রিপোর্টার, বোলপুর: মেলার মাঠে পাঁচিল ও বেড়ার (ফেন্সিং) বিরোধিতা করে এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনে নামল পৌষমেলা মাঠ বাঁচাও কমিটি। বুধবার ভূবনডাঙার শান্তিনিকেতন রোডে মঞ্চ তৈরি করে আন্দোলন শুরু করেন কমিটির সদস্যরা। তাতে শামিল হয়েছেন স্থানীয়রাও।

কলকাতা হাইকোর্ট গঠিত কমিটির নির্দেশে সোমবার থেকে ফেন্সিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে বিশ্বভারতীর পৌষ মেলার মাঠে। তার বিরোধিতায় মঙ্গলবার থেকে আন্দোলনে শুরু করেছে মেলামাঠ বাঁচাও কমিটি। এদিনই সকাল থেকে বোলপুর এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করে তারা। বাউল গানে প্রতিবাদ জানায়। বীরভূমের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এ নিয়ে আবেদনপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে বলে খবর। বুধবার সেই আন্দোলন আরও বড় রূপ নিল। প্রতিবাদের মঞ্চ তৈরি হওয়ায় এই আন্দোলন অনেক দূর যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, বিশ্বভারতীর মেলার মাঠে পাঁচিল তোলার কাজে কোনওরকম স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার প্রধান বিচারপতি টিভি রাধাকৃষ্ণণের বেঞ্চ জানিয়েছে, পাঁচিল তৈরিতে স্থগিতাদেশের জন্য রাজ্য চাইলে হাইকোর্ট নিযুক্ত কমিটির দ্বারস্থ হতে পারে। এ ব্যাপারে কমিটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

সম্প্রতি, পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মেলার মাঠে পাঁচিল তোলার কাজ করালেও, স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের একাংশ পে-লোডার নিয়ে এসে সেই নির্মাণ ভেঙে দেন। এরপর রাজনীতির আঁচ আরও বেশি করে এসে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। পাঁচিল ভাঙায় স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ।
বিধায়ক ছাড়াও আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। পাঁচিল তোলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয় পড়ুয়াদের একাংশ। দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয় নজিরবিহীন অচলাবস্থা। এই তাণ্ডবের পর সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে জল গড়িয়েছে উচ্চ আদালত পর্যন্ত। সমস্যা সমাধানে কলকাতা হাই কোর্ট ৪ সদস্যের এক কমিটি তৈরি করে।

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ, বীরভূম জেলা প্রশাসন, আশ্রমিক, পড়ুয়া, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী সমিতি সহ সকলের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ পর্যন্ত মাঠ ঘেরার পক্ষেই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কমিটি। রবিবার বিশ্বভারতী ও বীরভূম জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।

তবে গত শনিবারও ওই কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সেখানকার ব্যবসায়ী সমিতি, স্থানীয় বাসিন্দারা।এদিকে নিজেদের আগের অবস্থানেই এখনও অনড় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘আমরা প্রথম থেকে প্রাচীরের বিরোধিতা করে আসছিলাম। এমনকী, বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম। বুঝতে পেরেছিলাম আদালতের গঠন করা কমিটি বিশ্বভারতীর পক্ষে।’

এদিকে, ফের নতুন করে আন্দোলন ঘনীভূত হওয়ায় বেশ চিন্তায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই ১৪৪ ধারার দাবি জানিয়েছে তারা।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।