সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আজ ত্রিশে কিনছেন আলু। বিক্রেতারা আরও ভয় দেখাচ্ছেন। বলছেন দাম আরও বেড়ে ৫০ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে আলুর দাম। বাজার সূত্রে এমন খবরই মিলছে। বহু আলু বিক্রেতা এওই কথাই জানাচ্ছেন। অথচ রাজ্যের নিজস্ব ফসল আলু। আর কিছু না হোক আলু নিয়ে সবসময়েই সরকারের আলাদা আত্মবিশ্বাস রয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাসে চরম ধাক্কা দিতেই পারে আলু ব্যাবসায়ীদের এই আশঙ্কা। উল্টো দিকে রাজ্যের ফসল না হয়েও অতি সস্তায় বাজারে মিলছে পেঁয়াজ।

আজ নয় জুলাই মাসের মাঝখান থেকেই এই খবর মিলছে যে আলুর দাম নাকি আকাশছোঁয়া হয়ে পঞ্চাশে যেতে পারে। ঠিক সেই সময়েই আলুর দাম পঁচিশ থেকে আঠাশ হয়ে ত্রিশে চলে আসে। কোনও কোনও স্থানে জ্যোতি আলু ৩২টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে। সোজা কথায় আলুর দাম লাগামছাড়া হয়ে গিয়েছে। এখনও যদি সরকার বাজারে বাজারে না গিয়ে কড়া পদক্ষেপ না নেয় তাহলে কখন যে মানুষকে ৫০ টাকা কেজি আলু কিনতে হবে তা বোঝা যাবে না। এখনই তরকারিতে আলুর পরিমান কমতে শুরু করেছে বাঙালির হেঁশেলে পঞ্চাশে দাম গেলে আলুভাতে ভাতও বন্ধ হবে তা স্পষ্ট।

কিন্তু কেন এই দাম বৃদ্ধি? ব্যাবসায়িদের সেই পুরনো যুক্তি। আমফান ঝড়ে খুব ক্ষতি হয়েছে। এখন ঘটনা হল ক্ষতি যে হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই কিন্তু এতদিন ধরে এভাবে তার প্রতিফলন! তাও সরকার বলার পরেও এমন দাম চড়িয়েই বিক্রি। উলটে আরও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার গল্প শোনানো। যুক্তি আরও রয়েছে। টাস্ক ফোর্সের সদস্য রবীন্দ্রনাথ কোলের কথায়, ‘কোলে মার্কেটে আলু ঢুকলেও অন্য বড় বাজারে আলু কম আসছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও আলু যাচ্ছে। তাই আলুর জোগান বেশ কম।’ আর চাহিদা বেশি থাকলে যা হয় তাই হচ্ছে। হু হু করে দাম বাড়ছে। তাঁদের আশা বাজারে বাজারে সরকারি তত্ত্বাবধানে আলু পৌঁছবে। সেই দাম তখন কমতে পারে।

উলটে মজার ঘটনা হল যে ফসল পশ্চিমবঙ্গে খুব একটা বেশি হয় না সে পেঁয়াজ দিব্যি ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। একদিনের পুরনো হলে তা ১৫ টাকা কেজি দরেও ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। কেন এমন? তাঁরা জানাচ্ছেন বাইরের পেঁয়াজ বহুদিন লকডাউনের জন্য আটকে ছিল। এখনও গাড়ির সমস্যা রয়েছে। তাই জমে যাওয়া পেঁয়াজ হু হু করে কম দামে ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। পরে থেকে পচে যাওয়ার থেকে কম দামে ছেড়ে দিলে অন্তত খরচ উঠে আসবে। লাভ হলেও হবে কিন্তু লোকসান খুব একটা হবে না। আর এতেই ফেঁসেছে বাংলার মানুষ। আপন ‘দেশের’ ফসল বেশি দামে কিনতে হচ্ছে , ‘বিদেশি’ ফসল মিলছে সবচেয়ে কম দামে।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা