হুগলি: অসময়ের বৃষ্টিতে এবার আরও দাম বাড়তে পারে আলুর। এমনিতেই ক্রমেই রাজ্যের বাজারগুলিতে দাম বাড়ছে আলুর। গত বছর শেষের দিকে বুলবুলের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলু চাষ। আর এবার শীতের মরশুমে এখনও পর্যন্ত বাজারে দেখাই মিলছে না নতুন আলুর। পুরোন আলুর জোগানও এখন শেষের পথে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো অসময়ে টানা ২-৩ দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলছে রাজ্যজুড়ে। তারই জেরে ক্ষতি হচ্ছে শীতকালীন সবজি চাষে। এরই পাশাপাশি আলু চাষেও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আলুর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এমনিতেই রাজ্যের বাজারগুলিতে এখন জ্যোতি আলু কেজি প্রতি ২৮-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চন্দ্রমুখী আলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৮ টাকা কেজি দরে। অকাল বৃষ্টিতে হুগলি, পূর্ব বর্ধমান-সহ রাজ্যের একাধিক জেলার আলুর ক্ষেতে জল জমে গিয়েছে। জমিতে জল জমে যাওয়ায় আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে পূর্ব বর্ধমান জেলার অনেক আলু জমিতেই জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বৃষ্টি চলতেই থাকলে এই আলু জমিতে পচে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এমনিতেই বুলবুলের কারণে এবার দেরিতে চাষ হওয়ায় বাজারে এখনও সেভাবে নতুন আলুর দেখা নেই। পুরনো আলুর মজুতও শেষ হয়ে আসছে। ফলে আলুর দাম বেড়েই চলেছে। এর উপর বৃষ্টির জেরে আলুর ফলন মার খেলে আলুর দাম পিয়াজের মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যাবসায়ীরা।

আরও পড়ুন –অসময়ে দিঘায় প্রচুর ইলিশ, মাছ বাজারে ভিড় ক্রেতাদের

বৃহস্পতিবার রাত থেকে পূর্ব বর্ধমানের প্রায় সব এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টির জেরে কালনা, ভাতার, মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী, মেমারি, শক্তিগড়ের বেশিরভাগ আলু জমিতেই জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে । জমি শুকোনোর আগেই ফের এই বৃষ্টি আলু চাষের পক্ষে বেশ ক্ষতি করতে পারে। জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকলে আলু পচেও যেতে পারে। এমনই আশঙ্কা রাজ্যের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষি দফতর। শুধু আলু চাষই নয় অসমের এই বৃষ্টির জেরে ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে শীতকালীন সবজি চাষেও।

চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমানে ৭২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। তবে বৃষ্টি চলতেই থাকলে এবার জেলাজুড়ে আলু চাষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আর তাই ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হলে লাফি লাফিয়ে বাড়তে পারে আলুর দামও।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও