স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: জলের অভাবে কৃষক মৃত্যুর ঘটনা এখন রোজনামচা। এবার সামনে এসেছে অতি বৃষ্টির কারণে আত্মঘাতী হওয়া এক আলু চাষির খবর। মৃত আলু চাষির নাম চাদু মালিক (৪৫)৷ রায়না থানার মধুবন এলাকার বাসিন্দা৷

মৃত চাষির পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চাদু বাবু একজন ভাগচাষি ছিলেন৷ তিনি চলতি মরশুমে প্রায় তিন বিঘা জমিতে ভাগে আলু, পেঁয়াজ এবং লঙ্কা চাষ করে ছিলেন। এই চাষ করতে গিয়ে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা বাজারে ঋণ হয়। সেই টাকা তিনি শোধ করতে পারছিলেন না।

সম্প্রতি অকাল বৃষ্টির জেরে আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়। যেটুকু আলু জমিতে রয়েছে তা কেনার লোক নেই। ফলে সব মিলিয়ে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তার জেরেই তিনি বিষ পান করেন৷ পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখানেই মৃত্যু হয় চাদু বাবুর৷

আরও পড়ুন : লোকসভায় ‘অধীর গড়’ গুড়িয়ে মিথ তৈরির হুঁশিয়ারি মমতার প্রার্থীর

চলতি মরশুমে বর্ধমানের চারটি ব্লকে শিলাবৃষ্টির প্রকোপ ব্যাপকভাবেই পড়েছে। ফলে ওই চারটি ব্লকে আলু, পেঁয়াজ, আম ও সজনেতে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও জেলার ২৩টি ব্লকের মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্লকে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির জল আলু জমিতে জমা রয়েছে। সেই জমা জলেই আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে৷

চলতি বছরে আলুর উৎপাদন আশাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এই অতি বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আলু চাষিদের৷ বাজারে আলুর দামও রীতিমত নিম্নমুখী। খোলাবাজারে আলু ৫ থেকে ৬ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু সরকারিভাবে কেনার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু কেনা হলেও পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক হবে না বলে দাবি একাংশ আলু ব্যবসায়ীর।

চাষিরা আলুতে এলামাটি মিশিয়ে বাইরে পাঠাতেন। এই এলামাটি কোনো রাসায়নিক পদার্থ নয়। আলুর স্বাভাবিক রং-কে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু সরকারিভাবে এলামাটি মেশানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ তাঁরা এই এলামাটি পরীক্ষা করিয়েছেন। তাতে কোনো রাসায়নিকের হদিশ মেলেনি। এই নিষেধাজ্ঞার জেরেই তাঁরা বাইরেও আলু পাঠাতে পারছেন না। কারণ বাংলার আলুর রং ঠিক না থাকায় বাইরের রাজ্য তা কিনতে চাইছে না।