স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: ২০০৯ সাল থেকে চালু হওয়া মালদহের আদিনা স্টেশন গরুর হাট এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে লাইফ লাইন৷ কিন্তু পরিকাঠামোর সংস্কারের অভাবে তা প্রায় উঠে যেতে বসেছে৷ শুধু এই হাটই নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তের হাটের অবস্থা এতটাই খারাপ যে তাতে বেচাকেনা নিয়ে খুবই সমস্যায় রয়েছেন হাট কারবারীরা।

সদ্য শেষ হওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলার বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ দখল করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই এবার হাটের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছেন জেলাবাসী। এরকমই একটি হাট হল পুরাতন মালদহের মহিষবাথান গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিনা স্টেশন গরুর হাট।

মালদহের অন্যতম অর্থকরী ফসলের মধ্যে অন্যতম আলু। জেলায় ফি বছরই এই শীতকালীন মরশুমে কয়েক লক্ষ টন আলু উৎপাদন হয়। এই আলু জেলার হাট গুলির মাধ্যমে মূলত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। মালদহের পুরাতন মালদহ, গাজোল, হবিবপুর বামনগোলা ব্লক গুলিতে এই মরসুমে ব্যাপক পরিমাণে আলু চাষ হয়ে থাকে।

কিন্তু এত আলু রাখার জন্য কোল্ডস্টোরেজ বা অন্য কোন পরিকাঠামো নেই এই এলাকায়। ফলে অবিক্রিত আলু খুবই সামান্য দরে বিক্রি করে দিতে হয় অথবা রাস্তায় ফেলে দিতে হয়। এ রাস্তায় আলু ফেলে বিক্ষোভ প্রায় ফি বছরই দেখেন জেলাবাসী। এবার সেই সমস্যা সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন চাষী থেকে শুরু করে হাট কারবারীরা এবং সাধারণ মানুষ।

আদিনা স্টেশন গরু বাজার হাটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ দশ বছর হয়ে গেলেও এই হাটে কোনও পাকা রাস্তা নেই। যে রাস্তা রয়েছে, তা ভাঙা৷ হাটের দোকানগুলিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। নেই কোনও জল ও আলোর ব্যবস্থা। এলাকায় একটি বেসরকারি কোল্ডস্টোরেজ থাকলেও তাতে দাম খুবই চড়া। ফলে নিজেদের বেঁচে যাওয়া আলু রাখতে পারেন না চাষী বা ব্যবসায়ীরা। অবিক্রিত আলু ফেলে দিতে হয় তাদের। এর জেরে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েন তারা। এবার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চাইছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি হাটের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এর সঙ্গে সরকারি উদ্যোগে তৈরি করা হোক একটি হিমঘরও।

এই বিষয়ে মালদা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রফিকুল হোসেন বলেন, সেখানে একটা সমস্যা রয়েছে৷ জেলার হাটগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে একটি প্রজেক্ট বানাচ্ছি। তারপরেই উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।