স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: রবিবারই কৈলাস বিজয়বর্গীয় কলকাতায় সদস্যতা অভিযানে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন৷ তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল কাটমানি ইস্যুতে অভিযুক্ত কোনও তৃণমূল নেতা যেন বিজেপিতে যোগ না দেয়৷ কিন্তু বেনোজল যে ঢুকছে, তার প্রমাণ মিলল এদিনই৷

উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরে কাটমানি ফেরতের দাবিতে পোষ্টার পড়ল। এবার পোস্টার পড়েছে সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস দলত্যাগী বিজেপি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। বারাকপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরমাতা অর্পিতা বসু রায় ও তার স্বামী দেবনাথ রায় ওরফে বুবুর বিরুদ্ধে চন্দনপুকুর বাজার, হরিসভা সহ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার পড়েছে বলে অভিযোগ৷

পোস্টারে লেখা বেআইনি দোকান, বেআইনি ভাবে জমির প্রোমোটিং করিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজি ও কাটমানি নেওয়া হয়েছে৷ আর সেই ঘটনায় যুক্ত তৃণমূল ত্যাগী এই কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামী৷ পোস্টারের নিচে প্রচারে এলাকাবাসী লেখা হয়েছে ।

তবে এই বিষয়ে পৌরমাতা অর্পিতা দেবী ও তার স্বামী দেবনাথ রায় সংবাদ মাধ্যমকে কোন রকম প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। এদিকে মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই বারাকপুর পুরসভার তৃণমূলের পুরপ্রধান উত্তম দাস ও অন্য জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর নাম করে কাটমানি ফেরত চেয়ে পোস্টার পড়েছিল। এবার দলত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলর অর্পিতা বসু রায় ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে একই ধরনের পোস্টার পড়ল।

ওই দম্পতি সম্প্রতি বিজেপিতে যোগদান করেছে। এই বিষয় নিয়ে বিজেপি নেতা তথা বারাকপুরের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অহিন্দ্রনাথ বসুর বক্তব্য, কেউ কোন কাটমানি নিয়ে থাকলে সেটা একমাত্র সেই বলতে পারবে। কিন্তু ৪ দিন আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান করার পর এমন পোষ্টার পড়া রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এর পিছনে তৃণমূলেরই হাত রয়েছে। ওদের দলের গোষ্ঠী কোন্দল মেটাতেই সদ্য বিজেপিতে নাম লেখানো ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।”

অন্যদিকে, বারাকপুর পুরসভার তৃণমূলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপিতা শুভ্রকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “এটা বিজেপি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। কারন, পুরনো বিজেপি কর্মীরা নতুনদের মেনে নিতে পারছে না। সামনেই পুরসভা ভোট, পুরনো বিজেপির যারা ভেবেছিল কাউন্সিলরের টিকিটে লড়বে, এখন অন্য দল থেকে কেউ আসলে সেও টিকিটের দাবিদার হচ্ছে। ফলে নতুন কেউ আসলে তাকে পুরনো বিজেপির কর্মীরা মানতে নারাজ। তাই এই পোষ্টার দিয়েছে এলাকার মানুষের নাম করে।”