স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিধানভবনে কর্মী-সমর্থকদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিচ্ছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান বিধায়ক আব্দুল মান্নান৷ তাঁর বক্তব্য, দলের সদর দফতরেই যখন তাঁর নিরাপত্তা নেই তখন বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনায় দলের দায়িত্ব পালন তিনি করতে পারবেন না।

সিপিএমের সঙ্গে আসন সমঝোতার শেষ চেষ্টা করার জন্য বুধবার দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য ও বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানকে দায়িত্ব দিয়েছে প্রদেশ নেতৃ্ত্ব৷ সেই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না জানিয়েই রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিচ্ছেন ক্ষুব্ধ আব্দুল মান্নান৷

ঘটনার সূত্রপাত ওইদিন বিকেলেই৷ বুধবার লোকসভা ভোটে আসন সমঝোতা নিয়ে বৈঠক চলছিল প্রদেশ কংগ্রেসের নির্বাচন কমিটির। সেই সময়েই বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে দলেরই কর্মী-সমর্থকদের একাংশের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠল প্রদেশ বিধান ভবন চত্বর। গোটা বিধান ভবন জুড়েই ‘মান্নান হটাও, হুগলি কংগ্রেস বাঁচাও’ লেখা পোস্টার সেঁটে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের অভিযোগ, আব্দুল মান্নানের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ৷ তিনি কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাঁর জন্যই সিপিএমের সঙ্গে জোট ভেস্তে যাচ্ছে৷

যেই সময় এই বিক্ষোভ হচ্ছিল সেইসময় মান্নান বিধানভবনে আসেননি। বৈঠক শেষ হওয়ার পর সন্তোষ পাঠকের সঙ্গে তিনি বিধানভবনে আসেন। আব্দুল মান্নান তিনি যখন রাজ্য দফতরে ঢোকেন, তখন যুব কংগ্রেস সভাপতি সাদাব খানের নেতৃত্বে একদল কর্মী মান্নানের নামে স্লোগান দিতে থাকে। তাদের বক্তব্য, প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্রর অনুগামীরাই বিধানভবনে এই পোস্টার লাগিয়েছে৷

সূত্রের খবর, বিধানভবনে ঢোকার পরই ঘনিষ্টদের সামনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুল মান্নান৷ এমনকি সোমেন মিত্রর বিরুদ্ধে বিরোধীতার সুর আরও চড়নো হবে বলে ঘনিষ্টদের নির্দেশ দেন৷ আর এই ঘটনায় ভোটের মুখে বাংলার কংগ্রেসের ঘরোয়া কোন্দল ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষকরা৷