সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলাকাত: ওরা পোস্তায় ব্রিজ ভেঙে পড়ার দিনও ছুটে এসেছিল উদ্ধারকার্যে নেমে পড়তে। আরও একটা বৃষ্টি ভেজা বিকেলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাঝেরহাট ব্রিজ। দু-জনেই আরও কয়েকজনকে নিয়ে মঙ্গলবারও চলে এসেছিল উদ্ধারকার্যে হাত লাগাতে। মানিকজোর দিগন্ত এবং দুলাল।

বালিগঞ্জের বাসিন্দা দিগন্ত মন্ডল। একই এলাকায় বাড়ি দুলাল চন্দ্র মাইতির। দিগন্ত বারো বছর ধরে যুক্ত ভারত স্কাউট গ্ৰুপের সঙ্গে। আট বছর স্কাউট সঙ্গে যুক্ত দুলাল। সদ্য কুড়ির দুই যুবক আরও ১৫ জনকে সঙ্গী করে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ পৌঁছে গিয়েছিল দুর্ঘটনা স্থলে।

দিগন্ত জানিয়েছে , খবর পাওয়া মাত্রই তারা বাড়ি থেকে সঙ্গীদের ডেকে নিয়ে বেড়িয়ে পর। তবে নিউ অলিপুর পর্যন্ত অটো করে আটকে যায়। দুর্ঘটনার জেরে ব্যাপক ট্রাফিক, তাই অটো থেকে নেমে হেঁটে পৌঁছে যায় দুর্ঘটনাস্থলে।
দুলালের কথায়,”এসেই দেখতে পেলাম সেনা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এখানে কাজ করছে। আমরাও তাঁদের সঙ্গে উদ্ধারকার্যে নেমে পড়ি।” দিগন্ত বলেন,”আমরা এই পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত। স্কাউট করার সময় আমাদের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাই একটুও অবাক না হয়ে কাজে নেমে পড়ি।”

২০১৬র পোস্তায় ব্রিজ ভেঙে পড়ার দিন ঠিক একইরকম ভাবে বেশ কয়েকজনকে সঙ্গী করে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে আড়াই বছর আগের সেই বিকেলের পরিস্থিতি এর চেয়েও খারাপ ছিল বলে জানিয়েছে দুই বন্ধু। কারণ পোস্তা ব্যাপক জনবহুল অঞ্চল। শহরের ব্যবসাক্ষেত্রের অন্যতম অঙ্গ। তাই মৃতের সংখ্যাও বেশি ছিল। আতঙ্ক আরও বেশি ছিল। সেদিন বহু আহতকে লোহার বিমের তলা থেকে উদ্ধার করেছিল তারা।

কেরলেও পৌঁছে গিয়েছে তাদের দল। গঙ্গানগরে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর থেকে সমস্ত রকম বিপদশঙ্কুল পরিস্থিতিতে কাজ করতে শিখিয়ছে ওরা। যে কোনও বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হোক কিংবা বড় দুর্ঘটনা এভাবেই পৌঁছে যায় দুই বন্ধু। পৌঁছে যাবে আগামী দিনেও। লক্ষ্য বিপর্যয়ের মোকাবিলা।