কলকাতা: ভোট মিটতেই হিংসার কবলে রাজ্য। রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগের উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

সোমবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সল্টলেক এলাকায়। বাইপাস থেকে একটু দূরে সল্টলেক ছয় নম্বর নাভি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় একাধিক বাড়িতে মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে হামলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। যার জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়। আক্রান্ত পরিবারগুলি বিজেপি সমর্থক। পরিবারের অনেকে বিজেপির হয়ে ভোটের প্রচারও করেছে। তাদের দাবি, বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণেই এই ধরণের হামলার শিকার হতে হয়েছে। ভোটের আগেও এই ধরণের হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ভোট মিটতেই তা কার্যকর করা শুরু হয়েছে।

রাত ১২টা বাজার পর থেকেই শুরু হয় হামলা। পরপর বাড়িতে চালানো হয় ভাঙচুর। অনেকেই নিজেদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। কবে কী অবস্থায় নিজের বাড়িতে ফিরবে সেই বিষয়ে অনেকেই দিশাহারা। আক্রান্ত অনেকেই ভেবেছিল যে হামলাকারীদের তাণ্ডব থেমে যাবে অল্প সময়ের মধ্যেই। সেই কারণে বাড়ির অদূরেই লুকিয়ে ছিলেন। কিন্তু ঘণ্টা দুই পার হয়ে গেলেও থামেনি তাণ্ডব। সেই কারণে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছেন।

যে জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে সেটি বিধাননগর পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে পরে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রবীর সর্দার হামলার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “হামলার কথা শুনেছি। তবে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে সেটা আমি বলতে পারব না। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে বলেই শুনেছি।” আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা সবাই বিজেপির সমর্থক বলে দাবি করা হচ্ছে। ‘এই বিষয়ে কিছু জানা নেই,’ বলে দাবি করেছেন প্রবীর সর্দার।

ভোটের পরে এই ধরণের ঘটনার আঁচ আগাম করতে পেরেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই কারণে ভোটের পরেও রাজ্যে বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সোমবার রাজ্যের বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে জানান, ২৭ মে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ২০০ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে৷ এর মধ্যে স্ট্রং রুমের পাহারায় থাকবে ৮২ কোম্পানী বাহিনী৷ আর বাকি ১১৮ কোম্পানী বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায়৷ এবং ৫১০ কোম্পানী আধা সেনা বাহিনী রাজ্য থেকে তুলে নেওয়া হবে৷

প্রসঙ্গত, রবিবার ভোট চলাকালীন ভাটপাড়া রণক্ষেত্রের আকার নেয়৷ ব্যাপক বোমাবাজি ও গুলি চলার অভিযোগ উঠে৷ রাতভর বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষের পর সোমবার সকালেও অশান্তি অব্যাহত ছিল৷

এছাড়া খোদ কলকাতায় ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত৷ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার কিছু এলাকা থেকেও হিংসার খবর আসে৷ ভাটপাড়া বিধানসভার উপনির্বাচন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন সোমবার ভাটপাড়া জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে৷