চট্টগ্রাম: স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়া বাংলাদেশ সেনার কৃতী অফিসার ও কমান্ডো সিনহা রাশেদ খানের মৃত্যু মামলা আরও বিতর্কিত হতে চলেছে। এই মামলায় মৃতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কিছু অংশ এসেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে।

মৃত কমান্ডো সিনহা রাশেদকে সরাসরি গুলি করে মারায় অভিযুক্ত কক্সবাজারের পুলিশ। অভিযোগ, ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে ওই অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডো কে খুন করেছে পুলিশ।

যদিও অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের দাবি, চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ওই ব্যক্তি আচমকা পিস্তল বের করেন। এর পরেই গুলি চালায় পুলিশ। পরে কক্সবাজার হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। জানা যায় তিনি সেনাবাহিনির প্রাক্তন মেজর।

পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খানের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
খুব কাছ থেকে সিনহাকে তিনটি গুলি করা হয়েছে। তিনটি গুলি তার দেহে প্রবেশ করে আবার বেরিয়ে গেছে। এই কারণে তাঁর শরীরে গুলির ৬টি চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনটি গুলির দুটি বুকে, একটি বাম হাতের বাহুতে আঘাত করেছিল।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে– মৃত মেজর সিনহা রাশেদের গলা ও হাত সহ দেহের বিভিন্ন অংশে আঘাতের একাধিক চিহ্ন মিলেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় থানার ওসি প্রদীপ দাস সহ সাত পুলিশকর্মী আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে সবাই কক্সবাজার জেলে বন্দি।

মৃতের বন্ধু ও আত্মীয়রা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে সিনহা রাশেদ খান তথ্যচিত্র নির্মাণ করছিলেন। গত ৩ জুলাই ঢাকার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের তিন শিক্ষার্থী সহ ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভ্রমণ ভিডিও তৈরি করতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তিনি।

৩১ জুলাই রাতে গাড়িতে যাওয়ার সময় কক্সবাজারের চেকপোস্টে তাঁকে গুলি করে পুলিশ। পরে সিনহা রাশেদের আরও দুই সহযোগী কে গ্রফতার করা হয়। তাঁরা জামিন পেয়েছেন।

প্রবল বিতর্কের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা বলেন মৃত প্রাক্তন কমান্ডোর মায়ের সঙ্গে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দেন তিনি। পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ ও সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ একসঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।