ফাইল ছবি

লখনউ : ৮ পুলিশ কর্মী হত্যার ঘটনার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রকাশ করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২ জুলাই ৮ পুলিশ কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে কুখ্যাত অপরাধী মৃত বিকাশ দুবে ও তার গ্যাং।

রিপোর্ট বলছে সিও দেবেন্দ্র মিশ্র সমেত যে ৮ পুলিশ কর্মীকে খুন করা হয়, তার পিছনে ছিল গভীর পরিকল্পনা। কানপুরের বিকারু গ্রামে এই খুনের ঘটনা ঘটে। সরু ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় পুলিশ কর্মীদের। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মনে করছে, শুধু খুন করাই উদ্দেশ্য ছিল না বিকাশ দুবে ও তার সঙ্গী সাথীদের। পুরোনো কিছু ঘটনার শত্রুতাও এই খুনের পিছনে কাজ করেছে।

পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী দেবেন্দ্র মিশ্রকে চারবার গুলি করা হয়। এর মধ্যে তিনটি গুলিই তাঁর শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। একটা গুলি তাঁর মাথায় লাগে, একটি বুকে ও বাকি দুটি পেটে আঘাত করে। এছাড়াও, দেবেন্দ্র মিশ্রকে মাথায় গুলি করার পর তাঁর পা কাটা হয়। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে এই গুলিগুলো করা হয়েছিল।

রিপোর্ট জানাচ্ছে, তিনজন পুলিশ কর্মীকে মাথায় ও একজনকে মুখে গুলি করা হয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে একটি বিষয় পরিষ্কার, খুব নির্দয়ভাবে এদের মারা হয়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সরকার গোটা ঘটনার তদন্ত করতে এক সদস্যের প্যানেল তৈরি করেছে। এই প্যানেল বিকাশ দুবের এনকাউন্টারের ঘটনার তদন্ত করবে।

আট পুলিশকর্মীকে খুনের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। কুখ্যাত এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে রয়েছে ৬০টি মামলা। অবশেষে এনকাউন্টারে খতম সেই বিকাশ দুবে।

তবে আজ নয়, বহু আগে থেকেই অপরাধ জগতে শোনা যায় বিকাশ দুবের নাম। সেই ১৯৯০ থেকে শুরু। একাধিক অভিযোগ থাকা সত্বেও বারবার বেকসুর খালাস হয়ে যেত কানপুরের বিকাশ।

উত্তরপ্রদেশের বিখরু গ্রামের বাসিন্দা। খুব কম বয়সেই এইসব কাজে নাম লেখায় সে। তৈরি করছিল নিজের দলও। ১৯৯০ সালে প্রথম বিকাশ দুবের নামে অভিযোগ দায়ের হয়। খুন, ডাকাতি, অপহরণ, জমি দখলের মতো একাধিক অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

২০০৬ সালে একটি সাক্ষাৎকারে বিকাশ বলেছিল, গরীবদের সাহায্য করতেই নাকি এসব কাজ করত সে। গরীবদের জন্য তার দরজা সবসময় খোলা। বিকাশ দুবের সমস্ত অপরাধ সম্পর্কেই জানতেন তার স্ত্রী রিচা দুবে। ২০০১ সালে শিরোনামে আসে এই বিকাশ দুবে। উত্তরপ্রদেশে তখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন রাজনাথ সিং।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ