বর্ধমান: ভোটের ফল ঘোষণার পর পূর্ব বর্ধমান জেলর জামালপুর রক্তাক্ত। রাজনৈতিক সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন।কয়েকজন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র‌্যাফ নামানো হয়েছে।

গত নির্বাচনে জামালপুরে জয়ী হয় বামফ্রন্ট। এবার এই আসন গিয়েছে তৃণমূলের দখলে। ফল ঘোষণার পর থেকে পরপর হামলার অভিযোগ ঘিরে এলাকা সন্ত্রস্ত।

জামালপুরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে মৃতদের নাম কাকলি ক্ষেত্রপাল (৪৭), শাজাহান শা ওরফে সাজু (৩৮) ও বিভাস বাগ ওরফে বিনোদ (৩০)। জানা গিয়েছে কাকলি ও বিভাসের বাড়ি জামালপুর থানার নবগ্রামের ষষ্ঠীতলা ও উড়িষ্যাপাড়ায়। ভেড়িলি গ্রামে সাজুর বাড়ি। কাকলি এলাকায় বিজেপি সমর্থক হিসাবে পরিচিত। সাজু ও বিভাস তৃণমূল কর্মী হিসাবে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। সোমবার দুপুরে তৃণমূলের কয়েকজন নবগ্রামের দিকে বাইক নিয়ে যাচ্ছিল। তারা জয় বাংলা শ্লোগান দিচ্ছিল। সেই সময় উড়িষ্যাপাড়ায় বিজেপির সমর্থকরা তাদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তাদের বাইক ভাঙচুর করা হয়। বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। জখমদের জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সাজু ও বিভাসকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। জামালপুর হাসপাতালে মারা যান কাকলি।

তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মেহমুদ খান বলেন, বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি পাকাচ্ছে তারা। যদিও তৃণমূলের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের নবগ্রাম এলাকার নেতা আশিস ক্ষেত্রপাল বলেন, এদিন বেলা ১১টা নাগাদ আমরা কয়েকজন গ্রামের মাচায় বসেছিলাম। সেই সময় তৃণমূল কর্মীরা জয় বাংলা ও খেলা হবে শ্লোগান দিতে দিতে সেখানে আসে। তারা হামলা চালাতে আসে। আমরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলি। তৃণমূলের লোকজন পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর অন্য পথ দিয়ে এসে আমার বাড়িতে চড়াও হয়। আমাদের পরিবারের লোকজনের উপর হামলা চালায়। হামলায় আমার মা মারা যান। তৃণমূলের লোকজন ১৬-১৭টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। হামলায় আমার বাবা ও কাকাও জখম হয়েছেন।

সংঘর্ষের ঘটনার পর বিশাল পুলিস বাহিনি গ্রামে পৌঁছায়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিস। জামালপুর থানার এক অফিসার বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিসি টহল রয়েছে।

জামালপুরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে মৃত কাকলী ক্ষেত্রপালকে নিজেদের সমর্থক বলে দাবি করল সিপিআইএম। রাজ্য জুড়ে নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় সংযুক্ত মোর্চার তরফে বিমান বসু বিবৃতি দেন। তাতে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের পরিস্থিতির নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানান। এই বিবৃতিতে কাকলী ক্ষেত্রপালকে সিপিআইএম কর্মী বলে জানানো হয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.