গুজরাতের বিরুদ্ধে চার উইকেট ইশানের -ফাইল ছবি

কলকাতা: অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে গত ম্যাচে অন্তিমদিন ছয় পয়েন্টের জন্য না ঝাঁপানোয় কম সমালোচনা হয়নি। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তাই গুজরাতের বিরুদ্ধে ইতিবাচক অভিমন্যু ঈশ্বরণের বাংলা। খারাপ আবহাওয়ার কারণে দু’দিন নষ্ট হওয়ার পর রঞ্জির তৃতীয় ম্যাচে তিন পয়েন্টেও এক সময় ফিকে দেখাচ্ছিল। কিন্তু ন্যূনতম যে সুযোগ ছিল, সেটা দুর্দান্তভাবে কাজে লাগাল বাংলা। অন্ধ্রের পর গুজরাতের বিরুদ্ধে রঞ্জির তৃতীয় ম্যাচেও ঘরের মাঠে তিন পয়েন্ট এল বাংলার ঝুলিতে।

ম্যাচ অমিমাংসিত হলেও বলা যায় দুর্যোগকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল বাংলা। তৃতীয়দিন ইডেনে সারাদিনে ৪৫ ওভার বল করার সুযোগ পেয়েছিল ঈশ্বরণের বাংলা। আর তাতেই বিপক্ষ ব্যাটিং লাইন-আপে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিলেন বাংলার পেসাররা। ৭ উইকেটে ১৬৯ রান তুলে তৃতীয়দিনের খেলা শেষ করেছিল গুজরাত। বিপক্ষকে দু’শো রানের আশেপাশে আটকে রাখতে পারলে ব্যাটসম্যানরা অন্তিমদিন তিন পয়েন্ট এনে দিতে সক্ষম। তৃতীয়দিনের খেলার পর জানিয়েছিল্লেন বাংলার বোলিং কোচ রণদেব বসু।

সেইমতোই সোমবার অন্তিমদিন গুজরাতকে ২০০ রানের মধ্যে বেঁধে রাখেন বাংলার বোলাররা। গতদিন আকাশদীপের নামের পাশে লেখা ছিল ৪৩ রানে ৪ উইকেট। এদিন আরও ২টি উইকেট নিয়ে নিজের উইকেট ট্যালিকে ৬-এ নিয়ে যান ডানহাতি পেসার। গতকালের ৩ উইকেটের পর এদিন আরও এক উইকেট নেন ইশান পোড়েল। চতুর্থদিন বাকি ৩ উইকেটে ২৫ রান যোগ করে অল-আউট হয়ে যায় গুজরাত। ১৯৪ রানে শেষ হয় পার্থিবদের প্রথম ইনিংস।

জবাবে ব্যাট হাতে তিন পয়েন্টের লক্ষ্যে নিয়েই শুরু করে বাংলা। কিন্তু দলীয় ১৬ রানের মাথায় গত ম্যাচে শতরানকারী অভিষেক রামনের উইকেট খুঁইয়ে বসে বাংলা। এরপর অর্ণব নন্দীকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৪ রান যোগ করেন অধিনায়ক ইশ্বরণ। দীর্ঘায়িত হয়নি অর্ণবের ইনিংস। ১৫ রানে চিন্তন গাজার শিকার হন তিনি। তৃতীয় উইকেটে মনোজকে সঙ্গে নিয়ে ৪৩ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ৪২ রানে আউট হন অধিনায়ক।

৭ রানে কৌশিক ঘোষ আহত ও অবসৃত হয়ে মাঠ ছাড়লেও তিন পয়েন্টের রাস্তা থেকে সরেনি অরুণ লালের ছেলেরা। এরপর ঋত্বিক রায়চৌধুরিকে নিয়ে ধীরে-ধীরে তিন পয়েন্টের দিকে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান মনোজ তিওয়ারি। কিন্তু ৩৭ রানে হঠাতই ছন্দপতন প্রাক্তন অধিনায়কের। ১৩৭ রানে ৪ উইকেট খুঁইয়ে বসে বাংলা। এমন সময় দলের হাল ধরেন রঞ্জি অভিষেককারী ঋত্বিক। অর্ধশতরান পূর্ণ করার পাশাপাশি শ্রীবৎসকে নিয়ে বাংলার তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে ফেলেন তিনি। ৮ রান দূরে দাঁড়িয়ে শ্রীবৎস আউট হলেও বাংলার তিন পয়েন্ট পেতে কোনও সমস্যা হয়নি।

শাহবাজ আহমেদকে নিয়ে দলকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেন ঋত্বিক। ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন শাহবাজ। দিনের শেষে ৬৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান তোলে বাংলা।