সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: হরিনাথ দে স্ট্রিট এ। ভাষা দিবসের আগে এই রাস্তা, এই অঞ্চলে অবস্থিত বাঙালি ভাষাবিদের মূর্তি , তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল বিস্তর। বিশেষ করে বাংলা ভাষায় যখন ক্রমশ অন্য ভাষার প্রভাব বাড়ছে তখন ভিন্ন ভিন্ন ভাষা শিখে, পরে, লিখে এবং বলে বিশ্বের তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্বকে চমকে দিয়েছিলেন এই তরুণ ভাষাবিদ। মনে রাখেনি কেউ। ফলে পুরসভার ট্যাপ কলের উপরে কার্যত অবহেলিত অবস্থায় অবস্থান করছেন হরিনাথ দে। প্রশ্ন উঠবে কি এমন লাটের বাঁট হে এই হরিদাস পাল থুড়ি হরিনাথ দে?

ইতিহাস বলছে, সারা বিশ্বের বিস্ময় এই বাঙালি। চৌত্রিশ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবন কাটিয়ে তিনি যখন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করছেন, তত দিনে কুড়িটি ইউরোপীয় ভাষা, চোদ্দোটি ভারতীয় ভাষা কব্জা করে ফেলেছিলেন। ইতালিতে ভ্যাটিকান সিটিতে গিয়েছিলেন হরিনাথ। পোপ দশম পিউসের সামনে হরিনাথ। পোপকে চোস্ত লাতিন ভাষায় অভিবাদন জানালেন বাঙালি যুবক। হরিনাথের চোখা চোখা লাতিন উচ্চারণে স্তম্ভিত পোপ। স্বীকার করেছিলেন যে হরিনাথ বাবুর মতো প্রাচীন ল্যাটিন উনিও জানেন না।

পরামর্শ দিলেন, এ বার ইতালীয়টাও শিখে ফেললে হয় তো! পোপকে স্তম্ভিত করে দিয়ে হরিনাথ এর পর তাঁর সঙ্গে সরাসরি ইতালীয়তেই কথা বলতে শুরু করে দিলেন! হরিনাথের ল্যাটিন-দক্ষতা চমকে দিয়েছিল লর্ড কার্জনকে। আরবি ও পার্সি থেকে অনুবাদ করে তিনি সাহেবকে একটি বই উপহার দেন। বইটির উৎসর্গ পত্রটি ছিল ল্যাটিনে লেখা। তাতে এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন কার্জন, যে ঢাকায় গিয়ে তিনি ডেকে পাঠান হরিনাথকে। চীন সরকার তাঁকে সাম্মানিক খেতাব প্রদান করেছিল।

হরিনাথের জন্ম ১৮৭৭ সালের ১২ আগস্ট।আরিয়াদহ ,কামারহাটিতে। হরিনাথ দে প্রথমে রায়পুর স্কুল পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ পড়াশুনা করেন। তিনি ভারতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম ইন্ডিয়ান এডুকেশন সার্ভিস এর অফিসার ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের প্রথম লেকচারার তিনিই। ব্রিটিশ গ্রন্থাগারের দ্বিতীয় ও ভারতীয় রূপে প্রথম গ্রন্থাগারিক,ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরির প্রথম গ্রন্থাগারিক। তারপর অকালে মৃত্যু। এবং প্রায় বিস্মৃত হয়ে যাওয়া বাঙালির কাছে।