শেষ জন্মদিনে স্ত্রী-পুত্রের সঙ্গে।

পরাগ মজুমদার, মুর্শিদাবাদ: শারীরিক কারণে মাস তিনেকের ছুটি চেয়েও অব্যাহতি মেলেনি। বরং দলনেত্রীর তরফে নির্দেশ ছিল- ‘‘কোনও ছুটি নয়, যেমন ভাবে দল পরিচালনা করছো ,তেমন ভাবেই করে যাও৷’’

মঙ্গলবার সেই নির্দেশের ছন্দপতন ঘটল। নিয়তির নিয়ম মেনে মর-পৃথিবী থেকে চির ছুটিতেই চলে গেলেন মান্নান হোসেন৷ কিডনী সহ একাধিক শারীরিক অসুস্থতায় দীর্ঘদিন ভোগার পরে মঙ্গলবার কলকাতার এক বে-সরকারি নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মুর্শিদাবাদ তৃণমূলের জেলা সভাপতি৷

এদিন সন্ধ্যায় বহরমপুরের তার খাগড়াঘাট বাস ভবনে মৃত্যূ সংবাদ পৌঁছতেই সব মহলে নেমে আসে শোকের ছায়া। বর্ণময় মান্নানের জন্ম হয় ১৯৫২ সালে। কংগ্রেস দিয়ে রাজনীতিতে হাতে খড়ি৷ ছাত্র পরিষদ, যুব কংগ্রেসের দৌলতেই মুর্শিদাবাদে বাম বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উত্থান৷ ১৯৮২ তে জেলাপরিষদ, এক ঝটকায় ১৯৮৭ তে বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়ে কংগ্রেস বিধায়ক। পরে ২০০৪-১৪ সাল পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের টানা দুই বারের সাংসদ।

আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। চড়তে থাকে তার রাজনৈতিক গ্রাফও। ঠোঁট কাটা হিসেবে পরিচিত মান্নান কারও ভুল-ত্রুটি দেখলে তা সরাসরি তাঁকেই বলতে ভালোবাসতেন। ১৪ সালের সেপ্টেম্বরে মুর্শিদাবাদ সাক্ষী হয় নতুন ঘটনার। কংগ্রেস ছেড়ে তৃনমুলে যোগদান করেন মান্নান। জেলায় কার্যত বড়সড় ধাক্কা লাগে কংগ্রেস শিবিরে। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদ জেলা তৃনমুল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করেন মান্নানকে।

এতেই মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমুলের ক্ষমতা তরতর করে বৃদ্ধি পেতে থাকে। মান্নানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার ফল কে কাজে লাগিয়ে একের পর এক পঞ্চায়েতের দখল নিয়েছে তৃনমুল। জেলার সব কটি পুরসভা তৃণমুলের দখলে। জেলা পরিষদও বর্তমানে তৃনমুল কংগ্রেস পরিচালিত। জেলা জুড়ে তৃণমুলের হাওয়ায় নদী ভাঙ্গনের মত কংগ্রেস ভেঙে চলেছে। একদা কংগ্রেস তথা অধীর গড় হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলায় মান্নান হোসেনের নেতৃত্বে সুচারু হয়েছে ঘাস ফুল।

মান্নান হোসেন রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দল পরিচালনা করেছেন সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে। দল পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি মহকুমা সভাপতি এবং ব্লক সভাপতিদের দক্ষতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। স্বাভাবিক ভাবেই জেলা জুড়ে ব্লক স্তরে তৃণমুলের সংগঠন মজবুত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত। বাবার আদর্শ মেনে মান্নান পুত্র রাজীব ও সৌমিকও তৃণমূলের সৈনিক৷
তাঁর মৃত্যুর খবরে অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক সচিব তথা জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন উনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন৷ আজ শোকের দিনে এই সব পুরনো কথা অনেক মনে পড়ছে৷ ওঁর মৃত্যুতে মুর্শিদাবাদ এক পূর্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কে হারাল৷’’ পরিবার সূত্রে খবর, বুধবার খাগড়াঘাটের বাড়িতে তাঁর দেহ কবরস্থ করা হবে।

- Advertisement -