তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: আগামী ১৯ জানুয়ারী ব্রিগেড সমাবেশের জোরদার প্রস্তুতি শুরু করে দিল বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। ছোট-ছোট পাড়া বৈঠক, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ধরে সভার পাশাপাশি সমানে চলছে দেওয়াল লিখন। লোকসভা ভোটের আগে জেলা থেকে একটা বড় অংশের মানুষকে ব্রিগেডের সভায় হাজির করানোই এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে।

প্রচারে পিছিয়ে নেই জেলার জঙ্গল মহলও। সিমলাপালের মাচাতোড়ার গাঢ়রা গ্রামে গিয়ে দেখা গেল ব্রিগেড সমাবেশের প্রচারে দেওয়াল লিখছেন মাচাতোড়া অঞ্চল তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি রবিদাস চক্রবর্তী৷ দেওয়াল লিখনের ফাঁকেই তিনি জানান, ‘২০১১ সালে রাজ্যে পালা বদলের পর আমাদের এই জঙ্গল মহলে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। মাও সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন আর আতঙ্ক নিয়ে এখানকার মানুষকে বাস করতে হয়না। জঙ্গল মহলে একের পর এক গ্রামীণ রাস্তা পাকা হয়েছে। পানীয় জল, সাধারণ মানুষের জন্য দু’টাকা কেজি চালের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী হয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীরা খড় কুটোর মতো উড়ে গেছে।’

আসন্ন ব্রিগেড সমাবেশে রেকর্ড সংখ্যায় জনসমাবেশ হবে দাবি করে তিনি বলেন, শুধু মাত্র সিমলাপাল ব্লক এলাকা থেকেই পাঁচ হাজারেরও বেশী মানুষ যাবেন। প্রতি বুথে একটি করে বাস নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তাছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসংখ্য ছোটো গাড়ি করে মানুষ ব্রিগেডে পৌঁছে যাবে বলেও তিনি জানান।

বিশেষ সূত্রে খবর, আগামী ২৭ নভেম্বর পুরুলিয়া সফর শেষে ২৮ নভেম্বর বাঁকুড়া জেলা সফরে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দিন দুপুরে শালতোড়ায় সরকারি জনসভা করবেন। পরে বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক সভার পর শহরের সার্কিট হাউসে রাত্রি যাপন করবেন।

পরের দিন পশ্চিম বর্ধমানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা রাজনৈতিক মহলের ধারণা শালতোড়ার সভামঞ্চ থেকে ব্রিগেড সমাবেশ উপলক্ষ্যে বার্তা দিতে পারেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকের ধারণা মুখ্যমন্ত্রীর এবারের জেলা সফরের প্রশাসনিক কাজকর্মের খতিয়ান নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্যতম লক্ষ্য ব্রিগেড সমাবেশের প্রচার। যদিও জেলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করা হয়েছে।