স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে হারের মাসুল দিতে হল জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান ডঃ সৌরভ চক্রবর্তীকে। নির্বাচনী পর্যালোচনা বৈঠকে ডানাছাঁটা হল সৌরভের। এসজেডিএ চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে অপসারণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যদিও ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪ ভোটে পরাজিত সৌরভের স্থলাভিষিক্ত হয়ে পুরস্কৃত হলেন বিজয় চন্দ্র বর্মণ। এবারে লোকসভা ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন দলীয় প্রার্থীকে লিড দিতে না পারলে পদ ছাড়তে হবে দলের নেতাদের। লোকসভা নির্বাচনে ৪২ টি আসনের ৪২ টি জিতে দিল্লিতে দলের ওজন বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন মমতা। কিন্তু ভোটের ফল হয় উলটো। গতবারের থেকেও ১২ আসন কম পেয়ে ২২ টি আসনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তৃণমূলকে।

অন্যদিকে মাত্র ২টি আসন থেকে বাড়িয়ে ১৮তে নিয়ে যায় বিজেপি। আর এরপরেই কার্যত মুষড়ে পড়ে জোড়া ফুল শিবির। ফল প্রকাশের দুদিনের মাথায় কালীঘাটে দলের জয়ী ও পরাজিত সব প্রার্থী এবং জেলা পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন মমতা। বৈঠকে রাজ্যের একাধিক নেতার পাশাপাশি ডানাছাঁটা হয় সৌরভেরও। সাংবাদিক বৈঠক করে সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী নিজে৷ পাশাপাশি পরাজিত বিজয়কে সৌরভের স্থলাভিষিক্ত করার কথাও জানান তিনি।

ভোটে হারের পর থেকেই তৃণমূল কর্মীদের একাংশ সৌরভের ভূমিকার প্রকাশ্যেই সমালোচনা করতে শুরু করে। খোদ বিজয় চন্দ্র বর্মণের পুত্রও সোশ্যাল মিডিয়ায় জেলা সভাপতি বদলের দাবি জানান। সাংবাদিক বৈঠক করে সৌরভকে একহাত নেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ কুমার কল্যানীও। এরপরেই এদিন সৌরভের পদ কেড়ে তাকে শাস্তি দিলেন দলনেত্রী।

যদিও তাকে এখনও জেলা সভাপতি পদে রেখেছেন তিনি। অবশ্য এটাও কৌশলী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলে ভাঙ্গন ঠেকাতেই সামান্য শাস্তি দিয়ে উভয় পক্ষকেই নিজের পাশে রাখলেন মমতা, এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।