কলকাতা: রাজনৈতিক কৌশলী প্রশান্ত কিশোর আবার পা রাখলেন নবান্নে৷ বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বেরোতে দেখা গেল প্রশান্ত কিশোরকে৷ আর সেই সঙ্গে উসকে দিয়ে গেল একাধিক রাজনৈতিক জল্পনা৷

তাহলে কি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করতে এই প্রশান্তের ওপরেই ভরসা করতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী? এই নিয়ে দ্বিতীয়বার নবান্নে এলেন প্রশান্ত কিশোর৷ দেখা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে৷ তবে এই বৈঠকে ঠিক কোন বিষয়ে কথা হয়েছে দুজনের, তা এখনও জানা যায়নি৷

বুধবার বিধানসভা অধিবেশনে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানেই তিনি বিরোধী বাম ও কংগ্রেস বিধায়কদের যৌথভাবে লড়ার আহ্বান জানান৷ তিনি বলেন ‘‘সিপিএম-কংগ্রেস দেশটাকে ভাঙবে না। আমার ভয় হচ্ছে, ওরা (বিজেপি) সংবিধান না বদলে দেয়। আমাদের যৌথভাবে আসা দরকার৷’’

আরও পড়ুন : রাজ্য নির্বাচন কমিশনা কোনও নিরপেক্ষ সংস্থা পরিচালনা করুক, চান মুকুল

রাজনৈতিক মহলের মতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন ঠেলার নাম বিজেপি৷ এই পরিস্থিতিতে ‘চির শত্রু’ বাম ও প্রাক্তন জোটসঙ্গী কংগ্রেসকে কাছে টানার বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

তবে মমতার এই বার্তায় সাড়া দিতে নারাজ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট বা বিধান ভবনের নেতারা৷ সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের কথায়, ‘‘উনি ক’দিন আগে বলছিলেন সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি একসঙ্গে লড়ছে। উনি প্রথমে বলুন, সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ভোটের সময় মিথ্যাচার করেছি।’’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ‘‘তিনি কখনও বলছেন কংগ্রেসকে সাইনবোর্ড করে দেবেন। আবার কখনও বলছেন, কংগ্রেস দেশটাকে ভাঙবে না। কোনটা সত্যি আগে সেটা ঠিক করুন৷’’

তবে পরিস্থিতি যে বেগতিক, তা বুঝতে পারছেন মমতা৷ আর তাই একক ভাবে, নয়তো সম্মিলিত ভাবে বিজেপি রোখার বার্তা দিচ্ছেন তবে৷ তবে তৃণমূলের শক্তি জাগাতে তাহলে কি আর নিজের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না মমতা? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ প্রশান্ত কিশোরের ওপর তৃণমূলের ভবিষ্যত তুলে দিতে চাইছেন মমতা, আর সেই লক্ষ্যেই বারবার বৈঠকে মমতা-প্রশান্ত৷

আরও পড়ুন : ফ্লাইওভার-রেল,সংসদে যাদবপুরের দীর্ঘদিনের দাবিতে সরব মিমি

লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির বাড়বাড়ন্ত। একধাক্কায় দুটি আসন থেকে ১৮ টি লোকসভা আসন ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। বাংলায় এই গেরুয়া ঝড়ের পরেই কার্যত নৌকা টলমল শাসকদল তৃণমূলের। এই অবস্থায় বারবার সরকার ফেলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। তাই বিজেপিকে ঠেকাতে প্রশান্ত কিশোরকে ব্যবহার করে কিছুটা যেন কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার ব্যবস্থা করে রাখতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী৷

গত ২০০৪ সালে ‘আব কি বার মোদী সরকার, আচ্ছে দিনের স্লোগান দিয়ে ব্যান্ড মোদীকে সবার সামনে তুলে এনেছিলেন প্রশান্ত। মোদী ঝড়ের কাণ্ডারি ছিলেন তিনি৷ সেই শুরু৷ তারপর থেকে প্রশান্ত কিশোর মানেই ভোটবাক্সে নজরকাড়া রেজাল্ট৷ যাবতীয় নেতাদের উত্থানের পিছনে এই প্রশান্ত কিশোরের অবদান বারবারই খবরের পাতায় উঠে এসেছে৷ পরবর্তী নাম কি পশ্চিমবঙ্গ? নজর রাখছে দেশ৷