স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এরাজ্যের কোনও মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকেন তার ব্যবস্থা তিনি করছেন। তাই টানা লকডাউনে গরিব মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়া রাজ্য সরকারের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে ফের মাথা চারা দিয়ে উঠল রাজনীতি।

করোনার আতঙ্কে সবাই এখন প্রায় গৃহবন্দি। এই সময় শাসক-বিরোধী, সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে। ফলে বাংলায় অনেকটাই রাজনৈতিক তরজা কমেছিল। কিন্ত সেটা হটাৎ করে মাথা চারা দিল।

লকডাউনের সময়ে গরিব মানুষের মধ্যে চাল-ডাল বিলি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সম্প্রতিই ভাইরাল একটি ছবি। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে চাল, ডালের প্যাকেটের গায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় স্টিকার লাগানো রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এনিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, সাধারণ মানুষের কাছে এই সময়ে চাল, ডাল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে প্রশাসন। এর মধ্যে দলীয় প্রচার কেন? আবার কেউ বলছেন, এখন তো রাজনৈতিক প্রচারের সুযোগ নেই তাই এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে দলের প্রচারের কাজটা করে নিচ্ছে তৃণমূল।

শুক্রবার এটা নিয়ে টুইট করেচেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। ঘুরিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি লিখেছেন, “প্রচুর মানুষ এটা শেয়ার করছে – মিডিয়াও ফোন করছে। আমি বলবো, যদি মানুষের কাছে এগুলো পৌঁছয় তাহলে ভালোই তো। দিদি তো বলেছেনই কাটমানি ফেরত দিতে। দিদির ভাই/ভাইপোর সব সিন্ডিকেটগুলিও (সেগুলো যে আছে তা তো মিথ্যে নয়) যদি এটা করে তাহলে মানুষের উপকারই হবে। Jokes apart, আমি এটা সাপোর্টই করবো।”

করোনা সংক্রমণ কমাতে দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সময় অনলাইন ডেলিভারিও বন্ধ করেছে একাধিক সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধার দুর্গতির আশঙ্কা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, “বহু বাড়ি রয়েছে, যেখানে একা বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা থাকেন। এমন অনেক নিম্নবিত্ত পরিবার রয়েছে, যাঁদের বাড়িতে হয়তো দুই-তিন দিনের বেশি চাল-ডালটুকুও মজুত নেই। এই ধরনের মানুষের যদি খাদ্য সঙ্কট হয় তাহলে প্রতিবেশীদের পুলিশ বা বিডিওকে আপনারা খবর দিন।”