কলকাতা: প্রয়াত প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কৃষ্ণা বসু। শনিবার সকালে ইএম বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। একটানা ৩ বার যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন কৃষ্ণা বসু। প্রাক্তন সাংসদের প্রয়াণে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে।

কৃষ্ণা বসুর প্রয়াণে শোকাহত মেয়র ফিরহাদ হাকিম। প্রাক্তন সাংসদের মৃত্যুর খবর পেয়ে অন্যদের মতো তিনিও বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে এসে উপস্থিত হন। মেয়র বলেন, ‘মায়ের মতো স্নেহ করতেন উনি। এই ক্ষতি কখনই পূরণ হওয়ার নয়। সবসময় আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। মেয়র হওয়ার পরেও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল। কীভাবে কাজ করা উচিত, সে বিষয়ে নানা পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।’

এদিন হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। প্রাক্তন সাংসদের মৃত্যুতে শোকাহত তিনিও। কৃষ্ণা বসুকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘কৃষ্ণাদির সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলাপ। প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন তিনি। একাধিক ইস্যু নিয়ে ওঁর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’ কৃষ্ণা বসুর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কৃষ্ণা বসু ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক। ১৯৩০ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্ম কৃষ্ণা বসুর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর হন তিনি। অধ্যাপনা করেছেন কলকাতার সিটি কলেজে। পরে ওই কলেজেই অধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেছেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে অধ্যাপনা করেন কৃষ্ণা বসু।

একটানা ৩ বার লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের এই সদস্যা। প্রথমবার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন একাদশতম লোকসভায়। তারপরেও পরপর দু’বার লোকসভায় নির্বাচিত হন তিনি। প্রয়াত সাংসদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত চার-পাঁচ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ইএম বাইপাসের ধারে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। গত রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। শেষমেশ শনিবার সকাল ১০.২০ নাগাদ মৃত্যু হয় প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কৃষ্ণা বসুর। মায়ের মৃত্যুর সময় হাসপাতালেই ছিলেন কৃষ্ণা বসুর দুই পুত্র সুগত বসু ও সমুন্ত বসু।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হৃদযন্ত্রের সমস্যা থেকেই স্ট্রোক হয় কৃষ্ণা বসুর। তারই জেরে মৃত্যু হয় তাঁর। শনিবার রাতেই কৃষ্ণাদেবীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাইপো শিশির বসুর স্ত্রী ছিলেন কৃষ্ণা বসু।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.