সুমন ভট্টাচার্য: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের হারে বেতন দিতে গেলে পশ্চিমবঙ্গকে কত গরু কিনতে হবে?

ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম পে কমিশন চালু হবে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের এই ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমার ত্রিপুরার কথা মনে পড়ে গেল|| এটা সত্যি যে ত্রিপুরায় বিজেপি আসার সঙ্গে বিপ্লব দেবের সরকার সপ্তম পে কমিশন চালু করেছে| আবার তার সঙ্গে বাস্তবটা হচ্ছে যে ত্রিপুরার সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পান না| এবং এই যে কেন্দ্রিয় হারে ডিএ দেওয়া হয় না, সেই বিষয়ে বিরোধিদের অভিযোগের জবাবে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ২০১৯ এর নভেম্বরে যা বলেছিলেন, সেটাকে আর একবার মনে করে নেওয়া যেতে পারে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী দাওয়ায় হিসাবে বলেছিলেন, যদি ঘরে ঘরে গরু থাকে, সেই গরু থেকে যে দুধ পাওয়া যাবে এবং তার থেকে রাজ্য সরকারের যে আয় হবে, সেটা পেলেই ত্রিপুরার সরকারি কর্মীরা দাবি অনুযায়ী মহার্ঘ্যভাতা পেয়ে যাবেন।

এমনিতে বিভিন্ন বিষয়ে বিজেপি কি ভাবছে বা অমিত শাহ কি মনে করছেন, সেই নিয়ে বিপ্লব দেবের ‘টীকা’ সমকালীন রাজনীতিতে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আরএসএস-এর তাত্ত্বিক ধারণা অনুযায়ী ভারতের প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার কিংবা নেপালেও যে বিজেপি সরকার গড়তে চায়, এবং এই বিষয়ে অমিত শাহ যে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, সেই কথাও তো মাননীয় বিপ্লব দেব দিন কয়েক আগে সবাইকে জানিয়েছিলেন। তাই যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সপ্তম পে কমিশন চালু করার কথা বললেন, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার জন্য কত গরু কিনতে হবে, সেই হিসাবটা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো। কারণ যে কোনও বড় লেখকের বক্তব্য বোঝার জন্য যেমন ‘টীকাকার’দের লেখা পড়া জরুরি, তেমনই অমিত শাহের বক্তব্য বোঝার জন্য বিপ্লব দেবের মতো সফল ‘টীকাকার’এর দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।

তো তাহলে বিপ্লব দেব তো বলেই দিয়েছেন, ২০১৯ এর নভেম্বরে ভাইরাল হওয়া ভিডিও অনুযায়ী ত্রিপুরার সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পেতে গেলে ঘরে ঘরে গরু থাকতেই হবে।

পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেহেতু ত্রিপুরায় বিজেপি সরকারের পারফরমেন্স বারবার আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠছে, এবং সিপিএমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এসে অবধি বিজেপিকে বিঁধে গেছেন, তাই পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরাও অন্তত উত্তর-পূর্বের এই বাঙালি প্রধান রাজ্যের গেরুয়া শাসনের সঙ্গে একটা তুল্যমুল্য আলোচনা চাইবেনই। ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বিজেপি শাসনকে চাঁদমারি করার পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যে বিজেপি কেমন সরকার চালাচ্ছে, সেটা বার বার তাঁর বক্তৃতায় তুলে আনছেন। তাই ত্রিপুরার সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে অভিযোগ বা পেনশন না পাওয়া নিয়ে বিরোধিদের হুল ফোঁটানো পশ্চিমবঙ্গের এই মহা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া যাবতীয় প্রতিশ্রুতিকে আতসকাঁচের নিচে ফেলে দেবে।

বৃহস্পতিবার অমিত শাহের সভার পরেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা লড়াইটাকে একেবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম জয় শাহতে নিয়ে গেছেন। এদিন গেরুয়া শিবির স্বজনপোষন এবং দূর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করতেন। তারই পাল্টা হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলে জয় শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তৃণমূল নেত্রী জানতে চেয়েছেন, জয় শাহ কিভাবে এত ধনী হয়ে উঠলেন বা কোন্ ‘যাদুমন্ত্র’-এ তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ কর্তার পদে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণ আলাদা তাৎপর্য বহন করে বইকি, কারণ জয় শাহের ভারতীয় ক্রিকেটে উত্থান এবং ভারতীয় ক্রিকেটের সচিব হয়ে ওঠা নিয়ে এর আগেও অনেকে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি বিশিষ্ট ঐতিহাসিক এবং ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ রামচন্দ্র গুহ তো সরাসরি বলেই দিয়েছেন কেন্দ্রের শাসক দলের অঙ্গুলি হেলনে এখন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড চলছে।

২০২১ এর এই বিধানসভা নির্বাচনের দিকে যেহেতু গোটা ভারতবর্ষ তাঁকিয়ে এবং বিজেপিও সর্বশক্তি দিয়ে সেই ভোট জিততে ঝাঁপিয়েছে, তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যদি জয় শাহ কে রাজনৈতিক চাপানউতোরের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন, তাহলে সেই নিয়ে গোটা ভারতের সংবাদ মাধ্যমে চর্চা হবে। অর্থাৎ এতদিন শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যে রাজনৈতিক আক্রমণ চলছিল, তার পাল্টা হিসাবে জয় শাহ গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে বিরোধিদের আক্রমণের এবং কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে কামান দাগার উপলক্ষ্য হয়ে যেতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি যে ‘হাইভোল্টেজ’ চেহারা নিয়েছে, সেখানে বৃহস্পতিবার থেকেই রাজনৈতিক আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণের কেন্দ্রে এসে গেল দুই চরিত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অমিত শাহের ছেলে জয় শাহের তুলনা। আগামী কয়েকমাস ধরে নির্বাচনী উত্তাপ যত বাড়বে, ততই এই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ কি চেহারা নেবে, সেইদিকেই সকলের নজর থাকবে। আর তার সঙ্গে আর এক বাঙালি প্রভাবিত রাজ্য ত্রিপুরায় বিজেপি সরকারের পারফরমেন্স।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।