প্রতীকী ছবি

প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: ভাইরাস মোকাবিলায় দেশ জুড়ে লক ডাউন ঘোষনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে কেন্দ্রের লক ডাউন ঘোষনা আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলতি মাসের শেষ দিন ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত বাংলা জুড়ে লক ডাউন ঘোষনা করেছিলেন।

লক ডাউন ঘোষনা হলেও জরুরী পরিষেবা হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, দৈনন্দিন বাজার দোকান খোলা থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন করোনা মোকাবিলায় নাগরিকদের বারংবার আহ্বান জানিয়েছেন তারা যেন গৃহ বন্দী থাকেন। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য কেনা কাটা করতে পারবেন নাগরিকরা। সেক্ষেত্রে সকলকেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে জিনিস পত্র কেনাকাটা করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যারা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে যাবেন তারা কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য সামগ্রী কিনবেন না। তবে লক ডাউনের এই পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে খাদ্য দ্রব্য কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সবচে বেশি অসহায় অসুস্থ প্রবীণ বৃদ্ধ বৃদ্ধরা। আরও করুন অবস্থা সেই সব বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের যাদের সন্তানরা কর্মসূত্রে বিদেশে বা দূরে থাকেন। এই লক ডাউন পরিস্থিতিতে অসুস্থ্য বৃদ্ধ বৃদ্ধারা দোকান বাজারে গিয়ে ঠিক মত কেনা কাটা করতে পারছেন না।

অনেককেই অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এরকমই অবস্থা হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুর প্রান্তিক এলাকার বাসিন্দা ভক্তিপদ চক্রবর্তী এবং তার স্ত্রী প্রণতি চক্রবর্তীর।৭০ ছুঁই ছুঁই এই অসুস্থ্য দম্পতির এক মাত্র ছেলে অভিষেক চক্রবর্তী কর্ম সূত্রে হলদিয়া থাকেন। লক ডাউন পরিস্থিতির জেরে অসুস্থ্য বাবা মায়ের কাছে ফিরতে পারছেন না অভিষেক। এদিকে বৃদ্ধ দম্পতির দৈনন্দিন খাবারও শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে চিন্তিত হয়ে পড়েন ভক্তিপদ বাবু। কি ভাবে অসুস্থ শরীরে খাদ্য সামগ্রী জোগাড় করবেন তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না তিনি।

ছেলে অভিষেক ইছাপুরে এক বন্ধুকে বলেন তার বাবা মায়ের পাশে দাঁড়াতে। অভিষেকের বন্ধু মারফত বৃদ্ধ অসুস্থ্য দম্পতির দুরবস্থার কথা পৌঁছায় নোয়াপাড়া থানার পুলিশের কাছে। সঙ্গে সঙ্গে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ উদ্যোগী হয় ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্য করতে। থানার সাব ইন্সপেক্টর সুমিত বৈদ্য পুলিশকর্মীদের নিয়ে অভিষেকের বন্ধুর কাছে পৌঁছে বৃদ্ধ দম্পতির জন্য ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য সংগ্রহ করেন। সেই খাদ্য দ্রব্য নিয়ে পুলিশ পৌঁছায় ইছাপুর প্রান্তিকে অসুস্থ্য ভক্তিপদ বাবুর বাড়িতে। ওই বৃদ্ধ দম্পতির হাতে তুলে দেয়া হয় ওষুধ প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য।

ভক্তিপদ বাবু বলেন সম্প্রতি আমার বাইপাস সার্জারি হয়েছে। আমার স্ত্রী ভীষন অসুস্থ্য ঠিক মত হাঁটাচলা করতে পারে না। আমাদের এক মাত্র ছেলে হালদিয়াতে কর্মরত। লক ডাউনের কারনে ফিরতে পারছে না। অসুস্থ্য শরীরে আমিও বাড়ির বাইরে গিয়ে কেনা কাটা করতে পারিনি। এই পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীরা যে ভাবে ওষুধ ও খাবার বাড়িতে পৌঁছে দিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই।”

প্রণতি দেবী বলেন “আমরা অসহায় হয়ে পড়েছিলাম বুঝতে পারছিলাম না কি করবো। যেভাবে পুলিশকর্মীরা পাশে এসে দাড়ালো অনেক টা নিশ্চিন্ত বোধ করছি।” নোয়াপাড়া থানার সাব ইন্সপেক্টর সুমিত বৈদ্য বলেন আমরা এই বৃদ্ধ দম্পতির অসহায় অবস্থার কথা জানতে পেরে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসি। আমাদের অর্পন প্রকল্পে এই দম্পতির নাম নথিভুক্ত করা হবে। আমরা অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের পাশে সব সময়ই আছি। মাঝে মধ্যেই তাদের খবর নেবো আমরা। আমাদের ফোন নম্বর দিয়ে গেলাম ওনাদের কাছে যেকোন প্রয়োজনে ফোন করলে আমরা পৌঁছে যাব ।”নোয়াপাড়া থানার পুলিশের এই ভূমিকা দেখে ভীষন খুশি ইছাপুর প্রান্তিক অঞ্চলের বাসিন্দারা। তারা কুর্নিশ জানিয়েছেন পুলিশকর্মীদের।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা