স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: দেশজুড়ে যখন পুলওয়ামায় ঘটে যাওয়া শহিদ জওয়ানদের নিয়ে তোলপাড় তখন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মানুষজন কোথাও যেন একটু অন্য ছন্দে মেতেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে দীর্ঘ প্রায় কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে কিডনি পাচারকারী ও ছেলেধরা সম্পর্কিত নানান গুজব। আর এই গুজবে মেতেছে সমগ্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলাবাসী।

প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে তার সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও ততো উন্নত হচ্ছে। আর এই উন্নতির পথ অনুসরণ করে মানুষের হাতে হাতে এসে গিয়েছে স্মার্টফোন। যার ফলে সোশ্যাল মিডিয়া সাধারণ মানুষের কাছে ব্যবহার করা খুব সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। আর এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেলা জুড়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে কিডনি পাচারকারী ও ছেলে ধরা সম্পর্কিত নানান গুজব। এই গুজবের ফলেই এখন আতঙ্কিত সমগ্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলাবাসী। তাই পুলিশ জনসচেতনতার কাজে নেমেছেন৷

আরও পড়ুন : সিবিআই জেরার পরেই কমিশনার পদ থেকে সরছেন রাজীব কুমার

গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে একটি সতর্কতামুলক বার্তা। যে বার্তায় লেখা রয়েছে বিহার থেকে ৫০০ জন কিডনি পাচারকারী ও ছেলেধরা এ রাজ্যে প্রবেশ করেছে। যার ফলে বিভিন্ন জায়গায় মানুষদের বস করে তারা নাকি কিডনি ও শিশুদের চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বার্তা গ্রাহককে বলা হচ্ছে এই সমস্ত মানুষদের থেকে সতর্ক থাকতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত জেলার কোনও মানুষ এই ধরনের কিডনি পাচারকারী বা ছেলেধরাকে নিজে প্রত্যক্ষ করেননি৷

জেলার কোনও থানায় এই সম্পর্কিত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তা সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেলার প্রতিটি কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়া এই গুজবে মেতেছে মানুষ। তবে এই গুজবকে অনেক ক্ষেত্রেই জেলার মানুষজন সত্যি বলে দাবি করেছে৷ কিন্তু তাদেরকে যখন এই ঘটনার প্রমাণ ও নিজের স্বচক্ষে দেখেছেন নাকি জিজ্ঞেস করা হয় কখন তারা কোনভাবেই নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। জেলাজুড়ে গুজব এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এই ঘটনার জেরে বহু মানুষকে গণধোলাইও পর্যন্ত খেতে হয়েছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হলদিয়ার দেভোগ এলাকার বাসিন্দা তপন জানা দুর্গাচকে তার বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অন্ধকার হয়ে যাওয়ার জেরে তিনি তার বান্ধবীর বাড়ি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এমন সময় তিনি যখন তার বান্ধবীর বাড়ি খুঁজছিলেন তখন আশেপাশের লোক তাঁকে ওই কিডনি পাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করে এবং গণপিটুনি শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ এবং জখম তপন জানাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করে।

আরও পড়ুন : ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে তৃণমূল সরকার পড়ে যাবে: মুকুল রায়

পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই জন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে এবং হলদিয়া মহকুমা আদালতে তাদের তোলা হলে আদালত তাদের ১৫ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। অপরদিকে নন্দীগ্রামেও অনুরূপভাবে এক ব্যক্তির উপর গণপ্রহার করা হয়। ঘটনায় পুলিশ ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশকেও গণপ্রহার করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে৷ আদালতে তাদের তোলা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

এমন পরিস্থিতিতে এখন চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন। তারা এই গুজবে কান না দেওয়ার জন্য গত বেশ কয়েকদিন ধরেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মাইকিং ও লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশের এই প্রচারে কান নেই সাধারণ মানুষের। তারা এখন মেতেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের গুজবে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার ভি সোলায়মান নেসাকুমার জানান, জেলায় কোথাও কোনও ছেলেধরা ঘুরছে না বা কোনও শিশু চুরির ঘটনা ঘটেনি। কোথাও সন্দেহজনকভাবে কাউকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে তা তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানান৷