বারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতের নির্দেশে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে ঠাঁই হল নিমতায় বেসরকারি কলেজের ছাত্র দেবাঞ্জন দাস খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রিন্স সিংয়ের। রবিবার দুপুরে ছুটির দিনে বারাকপুরে বিশেষ আদালতে পেশ করা হয় দেবাঞ্জন খুনের মূল অভিযুক্ত প্রিন্স সিংকে। বারাকপুর মহকুমা আদালতের বিচারক এ সি জে এম ইনচার্জ স্বাতী মৌলিকের এজলাসে তোলা হয়। তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা দেবাঞ্জন খুনের ঘটনায় বিচারকের কাছে মূল অভিযুক্ত প্রিন্সের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানায়।

রবিবার বারাকপুর আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী সুদীপ সরকার বলেন, “এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রিন্সকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আজ তাকে আদালতে পেশ করে পুলিশ। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পুলিশ ১৪ দিনের জন্য অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করে । বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ধৃতের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় খুনের মামলা, ২০১ ধারায় তথ্য প্রমাণ লোপাট, ১২০ বি ধারায় ষড়যন্ত্র, ২৫/২৭ অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রের খবর, এই খুনের ঘটনায় ধৃত দুই অভিযুক্ত প্রিন্স ও বিশাল মারুকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে । খুনে ব্যবহৃত অগ্নেয়াস্ত্র কোথায় লুকানো হয়েছে, ওই বন্দুক ওরা কোথা থেকে পেয়েছে, প্রণয় ঘটিত কারনেই খুন কি না সবই জানার চেষ্টা করবে পুলিশ । তবে এখনো পর্যন্ত পুলিশ মনে করছে এই খুনের ঘটনায় প্রিন্সকে সাহায্য করেছিল অন্য অভিযুক্ত বিশাল । পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারবে বলে জানিয়েছে মৃত ওই ছাত্রের পরিবারের আত্মীয়দের।

এই মামলার গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিচারক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশের আবেদনমত ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করে। আপাতত নিমতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার রাতে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রিন্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিশাল মারুকে। তার ১১ দিনের পুলিশি হেফাজত হয়। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ মূল অভিযুক্ত প্রিন্সকে ধরে ফেলে।

শনিবার রাতেই তাকে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত নিমতা থানার পুলিশ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ির গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার করে। সেখান থেকে তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা ওই অভিযুক্তকে নিয়ে বজবজ থেকে সোজা বেলঘরিয়া থানায় নিয়ে চলে আসে। সেখানে রাতভর চলে জিজ্ঞাসাবাদ। নিরাপত্তার কারনেই প্রিন্সকে পুলিশ নিমতা থানায় না নিয়ে গিয়ে সোজা বেলঘরিয়া থানায় নিয়ে আসে শনিবার রাতে। এদিকে রবিবার দুপুরে বারাকপুর আদালতে উপস্থিত ছিল মৃত কলেজ ছাত্র দেবাঞ্জনের বাবা অরুণ দাস।

এদিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন,”নিমতা থানার পুলিশ এখন তদন্তে গতি বাড়িয়েছে। প্রথমে ওরা এই ঘটনাকে খুন বলে মানতে চায়নি। তবে এখন পুলিশের কাজে আমি খুশি। আমি ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম। তারমধ্যে মূল অভিযুক্ত এই প্রিন্স সহ দুজন ধরা পড়ল। আমি মনে করি আমার ছেলেকে খুনের ঘটনায় জড়িত আছে ওই মেয়েটিও। যদিও পুলিশ তার সঙ্গে কথা বলেছে, কিন্তু সে এখনো গ্রেফতার হয়নি। আমি যে ৫ জনের নামে অভিযোগ করেছি, তারা ছাড়া আর কেউ এই ষড়যন্ত্রে জড়িত নেই। যারা পরিকল্পনা করে আমার ২০ বছরের ছেলেকে খুন করল তাদের প্রত্যেকের ফাঁসি চাই আমি।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পুজোর সময় নবমীর রাতে বান্ধবীর সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে খুন হতে হয় কলেজ ছাত্র দেবাঞ্জন দাসকে। দশমীর সকালে নিমতা থানার পুলিশ ব্যাক্তিগত গাড়ির মধ্যে ওই কলেজ ছাত্রের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে। সেই ঘটনাকে পুলিশ প্রথমে গাড়ি দুর্ঘটনা বলে চালাতে চাইলেও পরে এই খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে চলে আসে। জানা যায় দেবাঞ্জনকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। দুটি গুলির খোল ওই গাড়ির মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃতের শরীরে দুটি গুলি লাগে।