স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: জিডি বিড়লা স্কুলে নার্সারির পড়ুয়ার উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় চার্জশিট পেশ করল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ৷ সেখানে অভিযুক্ত দু’জন শিক্ষকেরই নাম রয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের ধারা দিয়েছে পুলিশ৷ এই ধারা প্রথমে ছিল না৷ পরে যোগ করা হয়৷ চার্জশিটে পুলিশ জানিয়েছে, স্কুল চলাকালীনই নার্সারির ওই পড়ুয়াকে গণধর্ষণ করে দুই শিক্ষক৷

আরও পড়ুন: জিডি বিড়লা কাণ্ডের তদন্ত এবার লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে

গত বছরের শেষে দক্ষিণ কলকাতার ওই স্কুলে নার্সারির ছাত্রীর উপর যৌনহেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হইচই পড়ে গিয়েছিল৷  টানা বেশ কয়েকদিন স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা৷ দু’জন শিক্ষক এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে৷ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে৷ কিন্তু তার পরও চলতে থাকে আন্দোলন৷ মূলত, স্কুলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অভিভাবকরা৷

আরও পড়ুন: জিডি বিড়লার ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বললেন মুখ্যমন্ত্রী

অভিভাবকদের বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘদিন অচলাবস্থা চলে স্কুলে৷ পরে অভিভাবকদের বিক্ষোভের জেরে নরম হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ৷ অভিভাবকদের একাধিক দাবি মেনে নেওয়া হয়৷ সরিয়ে দেওয়া হয় স্কুলের প্রিন্সিপ্যালকেও৷ অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তও চলতে থাকে সমানভাবে৷

ঘটনার ৮৮দিন পর সেই তদন্তের ভিত্তিতেই চার্জশিট পেশ করলেন তদন্তকারীরা৷ বুধবার আলিপুরের বিশেষ পকসো আদালতে চার্জশিট পেশ করেন তাঁরা৷ চার্জশিটে পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মূল দুই অভিযুক্ত অভিজিৎ রায় ও মফিজুদ্দিন মোল্লাই ওই ঘটনায় জড়িত৷ স্কুল চলাকালীনই বাথরুমে গিয়ে তারা ওই কাণ্ড ঘটায়৷

আরও পড়ুন: জিডি বিড়লা-কাণ্ডে বিশেষ কমিটি গঠন

২৯ নভেম্বর জিডি বিড়লা স্কুলে ঘটনাটি ঘটে৷ পরদিন পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হয়৷ অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরদিনই পুলিশ দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে৷ সেই ঘটনার তদন্ত চলাকালীন অনেককে জেরা করেছে পুলিশ৷ নির্যাতিতা শিশুর মা-বাবা-সহ আরও অনেক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ৷ তার পরই এই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে বলে সরকারি আইনজীবী মাধবী ঘোষ জানান৷ তিনি জানান, চার্জশিটে ২৭ জনের নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷ ১১ জনের নাম রয়েছে, যাঁরা গোপন জবানবন্দি দেবেন৷

আরও পড়ুন: বিতর্কের কালি মেখে খুলল জিডি বিড়লার দরজা