সিডনি: সত্যজিৎ রায়ের 'বাদশাহি আঙটি' গল্পের কথা মনে আছে! ধীরেন্দ্র কুমার সান্যাল মারা যাওয়ার আগে দু'বার একটি শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন, 'স্পাই'। ইংরাজিতে 'স্পাই' শব্দের অর্থ গুপ্তচর। সেই নিয়ে জটিল হয়ে যায় রহস্য। অবশেষে ফেলুদার 'মগজাস্ত্র' আবিষ্কার করে যে, ধীরেন্দ্র বাবু 'স্পাই' বলতে মাকড়সা বোঝাতে চেয়েছিলেন। এইরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে ক্যঙারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে।

রাত দু'টোর সময় ঘরের ভিতর থেকে চিৎকার আসছে, "আমি তোকে মেরেই ফেলব। তোকে না মারা পর্যন্ত আমার শান্তি নেই।" পারিবারিক বিতর্ক যাতে হত্যার পর্যায়ে না পৌঁছায় সেই কারণে পুলিশে খবর দিল প্রতিবেশীরা। ঘরের দরজার সামনে এসে পুলিশ শুনতে পেল সেই একই চিৎকার "আমি তোকে মারবই।" সেই সঙ্গে ঘরের আসবাবপত্র পড়ে যাওয়ার আওয়াজ। দরজায় কিছুক্ষণ ধাক্কা দিতে হাঁপাতে হাঁপাতে বেরিয়ে এল বছর তিরিশের এক বিধ্বস্ত যুবক। ঘরে ঢুকে কাউকে না দেখতে পেয়ে যুবককে পুলিশের প্রশ্ন, "তোমার স্ত্রী কোথায়?" পুলিশের উদ্দেশ্যে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে যুবক বললেন, "মানে? ঠিক বুঝলাম না।" পুলিশ ফের প্রশ্ন করল, "তোমার সঙ্গে কি এখানে তোমার প্রেমিকা থাকে?" যুবকের সপ্রতিভ জবাব, "আমি এখানে একাই থাকি।" অবাক হয়ে পুলিশ জানাল চিৎকার এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগের কথা। তাপরেই জট ছাড়ল রহস্যের। যুবক জানালেন, "আমি মাকড়সা একদম সহ্য করতে পারি না। একটা মাকড়সা মারতে গিয়েই চিৎকার করছিলাম।"

অভিযান সেরে মাকড়সা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল নেট ওয়াওয়ার্কিং সাইট গুলিতে শেয়ার করেছেন পুলিশ কর্মীরা। ভাইরালের মতো ছড়িয়ে পরে পুলিশি অভিযানের গল্প। স্থানীয় রেডিও স্টেশনে এই নিয়ে হয়ে গিয়েছে এক মজার অনুষ্ঠান। মাকড়সা-যুবক কাহিনী এখন মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে রিকি পন্টিংয়ের শহরে।