প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: রাজ্যে লকডাউন পরিস্থিতি-কে সার্থক করতে পুলিশ প্রশাসনকে সবসময় দেখা যাচ্ছে কঠোরভাবে কাজ করতে। তবে তারা কঠোর হওয়ার পাশাপাশি সমস্যায় পরা সাধারণ মানুষের পাশেও দাঁড়াচ্ছেন। এক অসুস্থ বৃদ্ধাকে তাঁর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করে ফের মানবিকতার পরিচয় দিলেন উত্তর ২৪পরগনার নোয়াপাড়া থানায় পুলিশ৷

উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়া মেন রোডের অপরূপা অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা ঝুমা সেনগুপ্ত। দীর্ঘদিন ধরেই অপরূপা অ্যাপার্টমেন্টের চার তলার একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকেন পেশায় সমাজকর্মী ঝুমা দেবী। সোমবার দুপুরে হঠাৎ করেই নিজের বন্ধ একাকী ফ্ল্যাটের মধ্যে পড়ে যান ঝুমা দেবী। বাইরে করোনা আতঙ্কের মধ্যে অন্য কাউকে ফোন করে তার ঘরের মধ্যে পরে গিয়ে অসুস্থ হওয়ার কথা জানাতে চাননি তিনি। কিন্তু অবস্থায় অসুস্থ ঝুমা দেবী অতিকষ্টে উঠে ফোন করেন নোয়াপাড়া থানায়। ফোনে তার পড়ে গিয়ে অসুস্থ হওয়ার কথা শুনেই তৎপর হন নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীরা। তারা একজন কর্তব্যরত নার্স ও দরকারি ওষুধপত্র নিয়ে দ্রুত হাজির হন অপরূপা অ্যাপার্টমেন্টে।

পুলিশ কর্মীরা যাওয়ায় কোন রকমে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে দেন ঝুমা দেবী। ফ্ল্যাটের গিয়ে পুলিশ কর্মীরা দেখেন ব্যাথায় কাতরাচ্ছেন ঝুমা দেবী। দুপুরে সেইভাবে কোন চিকিৎসক না-পাওয়া গেলেও পুলিশের সঙ্গে যাওয়া নার্স অসুস্থ ঝুমা দেবীর চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা।

ফ্ল্যাটের ভেতর পুলিশ কর্মীদের তৎপরতা দেখে আপ্যার্টমেন্টের অন্যান্য বাসিন্দারাও আস্তে আস্তে বেড়িয়ে আসেন ও ঝুমা দেবীর ফ্ল্যাটে গিয়ে তার খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন। এই গোটা ঘটনা সম্পর্কে নোয়াপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক স্বপন সাহা বলেন ” আমরা অসুস্থ ঝুমা সেনগুপ্তের ফোন পাই। তিনি ফোনে তার পড়ে যাওয়ার কথা আমাদের জানান আর আমরা সঙ্গে সঙ্গে একজন নার্সকে নিয়ে চলে আসি। ঝুমা দেবী একা এই ফ্ল্যাটে থাকেন । উনি পরে যাবার পর প্রথমে ডাক্তারদের কে ফোন করেন কিন্তু কোন ডাক্তার না পেয়ে আমাদের ফোন করেন। আর আমরাও দ্রুত এখানে ছুটে আসি।”

অসুস্থ ঝুমা সেনগুপ্ত নিজের ফ্ল্যাটে পুলিশের তৎপরতায় ও নার্সের চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হয়ে আমাদের জানান, “পুলিশের ওপর আমার আস্থা ছিল কারণ এই লকডাউন পরিস্থিতিতে তারা যেভাবে সমাজের ভালোর জন্য কাজ করছেন সেখানে তারা আমার এই দুঃসময়ে ছুটে আসবেন সেটা আমার বিশ্বাস ছিল। তাই ডাক্তারদের না-পেয়ে আমি পুলিশেই ফোন করে আমার অসুস্থতার কথা জানাই। আর ওনারা ফোন পেয়ে এখন নার্স ও ওষুধ নিয়ে আমার ফ্ল্যাটে চলে আসেন। এখন আমি অনেকটা সুস্থ অনুভব করছি। আর পুলিশ প্রশাসনের ওপর আমার আস্থা আগের থেকে অনেকটা বেড়ে গেল।”