হাওড়া: ফের মানবিক পুলিশ। করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। এই অবস্থায় আর্ত শিশুর প্রাণ বাঁচিয়ে ফের মানবতার নজির গড়ল উর্দিধারী এক দেবদূত।

এমনই এক ঘটনার সাক্ষি হয়ে রইল হাওড়াবাসী। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে নিয়মমাফিক হাওড়ার মহেন্দ্র ভট্টাচার্য রোডের টহল দিতে আসেন, চ্যাটার্জীহাট থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক সুবীর ঢালি। সেই সময় মহেন্দ্র ভট্টাচার্য রোডের বাসিন্দা বাপ্পা দাসের শিশু কন্যা হঠাৎ পেটের যন্ত্রণায় গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো। কিন্তু লকডাউনের জেরে সমস্ত রাস্তাঘাট শুনশান থাকায় কার্যত একটা অ্যাম্বুলেন্স যোগাড় করতে কালঘাম ছুটে গিয়েছিলো বাপ্পার প্রতিবেশীদের। ফলে দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আরও দেরি হয়ে যাছিলো তাদের।

এমন অবস্থায়, তখনই যেন ঠিক দেবদূতের মতো সেখানে এসে পৌঁছান থানার বড়বাবু। বিষয়টি জানা মাত্রই তিনি নিজেই অসহায় ওই শিশু ও তার পরিবারকে রাস্তা থেকে তুলে নেন নিজের গাড়িতে। দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এদিকে, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়ায় শিশুটির দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন ডাক্তাররা। প্রাণ সংশয় কেটে যায় তার। লকডাউনের শহরে পুলিশের এহেন মানবিকতায় প্রাণে বাঁচল ৮ বছরের ওই শিশু কন্যা।

জানা গিয়েছে, হাওড়ার মহেন্দ্র ভট্টাচার্য রোডের বাসিন্দা বাপ্পা দাস। তার শিশুকন্যা শুক্রবার হঠাৎই পেটের যন্ত্রণায় কাতরাতে শুরু করেছিল। যন্ত্রনায় মাঝে মাঝে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছিল সে। প্রথমে এগিয়ে আসেন পাড়ার লোকজন। অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ শুরু হয়। হন্যে হয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স। বিভিন্ন নার্সিংহোমের একটিও অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন শিশুটির পরিবার।

ঠিক সেই সময় এলাকায় লকডাউনের পরিস্থিতি দেখতে আসেন চ্যাটার্জীহাট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুবীর কুমার ঢালী। ঘটনার কথা জানতে পেরে তিনি গাড়ি থেকে নেমে নিজের গাড়িতে তুলে দেন যন্ত্রনায় কাতর শিশুটিকে। শিশুটির পরিবারকেও গাড়িতে তুলে পাঠানো হয় কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসকেরাও দ্রুত শিশুটির চিকিৎসা শুরু করেন।

শিশুটির পরিবার সূত্রের খবর, চিকিৎসকেরা জানান শিশুটি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের যন্ত্রনায় কাতর। হাসপাতালে আনতে দেরি করলে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতেও পারত। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয় শিশুটির। শনিবার অস্ত্রোপচার হবে তার।

শিশুটির বাবা বাপ্পা দাস বলেন, “থানার বড়োবাবু এসে সাহায্য না করলে আমার একমাত্র মেয়েকে চিরজীবনের মতো হারিয়ে ফেলতাম। শুধু হাসপাতালে পাঠিয়েই ক্ষান্ত হননি ওই পুলিশ আধিকারিক। শিশুটির চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে যেন ফেরেন সেই নির্দেশও দেন তাঁর গাড়ির চালককে।”

এদিকে, বড়োবাবুর কথামতো শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে দেন থানার বড়োবাবুর গাড়ির চালক সৌরভ। ওই চালকের দাবি, অনেকদিন ধরেই অনেক পুলিশ আধিকারিকের গাড়ি চালিয়েছি, তবে আজ যে মানবিক মানুষটিকে দেখলাম তাতে পুলিশের গাড়ির চালক হিসাবে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। সুবীরবাবু নিজেও খুব খুশি শিশুর পরিবারের পাশে সময়মতো দাঁড়াতে পেরে।