স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ব্যবসায়ী প্রতুল চক্রবর্তী খুনের ঘটনায় ধৃত স্ত্রী অদিতি চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল খড়দহ থানার পুলিশ। এদিন অদিতি চক্রবর্তী পুলিশকে নিজেই দেখিয়ে দেন কিভাবে তিনি শান্তিনগরে ভাড়া বাড়িতে এসে মদ্যপ স্বামীকে খুন করেছিলেন।

খড়দহ থানার পুলিশ কর্মীরা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শনিবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরের মহিলা কর্মী অদিতিকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিনগর কাঠপোল খাল ধার এলাকায় আসে। সেখানে অদিতিকে নিয়ে তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা পৌঁছয় সেই ঘরে৷ যে ঘরে প্রতুলকে খুন করে দরজা ভেজিয়ে দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন অদিতি৷ এদিন অদিতি পুলিশকে জানান, দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী প্রতুল তাকে খড়দহে ডেকেছিল ধার নেওয়া টাকা পরিশোধ করবে বলে। সে প্রতুলের ভাড়া বাড়ি চিনত না। প্রতুলই তাঁকে রহরা বাজার এলাকা থেকে ওই ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রাতে হোম ডেলিভারি আনিয়ে দুজন খাওয়া দাওয়াও করেন।

এরপর নিজের স্বভাবমতো ঘরে গিয়ে মদ্যপান করেন প্রতুল। যখন প্রতুলের কাছ থেকে টাকা চায় সে তখন টাকা দিতে অস্বীকার করে প্রতুল। দুজনের মধ্যে ওই রাতে প্রথমে শুরু হয় বচসা। এরপর মদ্যপ স্বামীকে ধাক্কা মেরে ঘরের মেঝেতে ফেলে দেন অদিতি। এরপরই স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে প্রতুলকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেন অদিতি। স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত করতে শাড়ির শক্ত পাড় দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে টেনে খুন নিশ্চিত করে সে। স্বামীকে খুনের পর তার প্রমাণ লোপাটেরও চেষ্টা করেছিলেন অদিতি।

পুলিশের বক্তব্য, খুনের পর পালানোর সময়ই অদিতি প্রতুলের ডায়েরি ও কিছু নথি স্থানীয় খালের জলে ফেলে নষ্ট করে দিয়েছিলেন। শনিবার সেই খালের ধারেও পুলিশকে নিয়ে যান অভিযুক্ত মহিলা। খুনের পর একটি অটোয় করে শান্তিনগর থেকে বিটি রোডে আসে সে। এরপর সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে এসে বাস ধরে পৌঁছোয় কাশীপুরে নিজের আবাসনে। বৃহস্পতিবার সকালে আবাসনে পৌঁছে ফ্রেস হয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে ডিউটি করতেও যায় অভিযুক্ত অদিতি। খুনের পর অদিতি অফিসে গিয়েও স্বাভাবিক আচারণই করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।