কলকাতাঃ  হাওড়ায় আইনজীবীদের উপর লাঠিচার্জের ঘটনায় কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ বুধবার হাওড়ায় আইনজীবীদের উপর অকথ্যভাবে লাঠিচার্জে ঘটনার শুনানি ছিল বিচারপতি বিশ্বনাথ সম্মাদারের ডিভিডশিন বেঞ্চ। শুনানি শেষে চূড়ান্ত নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। নির্দেশে আদালত প্রাক্তন বিচারপতি কল্যাণজ্যোতি সেনগুপ্তের নেতৃত্বে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানায়। আগামী তিনমাসের মধ্যে এই কমিটি রিপোর্ট জমা দেবে আদালতে।

শুধু তাই নয়, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তৈরি এই কমিটি সুপারিশ করবে যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত চলবে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের সিপি বিশাল গর্গ সহ পুলিশ আধিকারিক রাজর্ষি দত্ত, ভাবনা গুপ্তা, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ধিপেন তামাং, গুলাম সাবার এবং ভিএসআর আনন্দ কুমারের বিরুদ্ধে। আর এই তদন্ত চলাকালীন এই সাতজন পুলিশ আধিকারিক হাওড়া জেলার কোনও দায়িত্বে থাকতে পারবে না বলে নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

শুধু তাই নয়, আইনজীবী এবং পুলিশের মধ্যে চলা এই খন্ডযুদ্ধের পর যে সমস্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে তাদের বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা পুলিশ নিতে পারবে না বলে নির্দেশে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ এপ্রিল গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে হাওড়া পুরসভা ও কোর্ট চত্বর৷ পুরকর্মীদের আক্রমণে আহত হন আইনজীবীরা৷ দুপক্ষের মধ্যে বচসা, পরে যার জেরে রণক্ষেত্রের আকার নেয় ওই এলাকা৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে লাঠি চার্জ করতে হয়৷ জখম হন হাওড়া কোর্টের বেশ কয়েকজন আইনজীবী৷ শাস্তি দিতে হবে অভিযুক্ত পুরকর্মীদের, পুলিশ লাঠি দিয়ে মেরে তাদের প্রতি অসম্মান করেছে৷ ন্যায্য বিচারের দাবিতে রাজ্যের সমস্ত আদালতের আইনজীবীরাই একজোট হন। গত ২৫ এপ্রিল থেকে রাজ্যের সব আদালতে কাজ বন্ধ রাখেন আইনজীবীরা৷ বন্ধ রেজিষ্ট্রি অফিসের কাজও৷ হয়রানির শিকার হন বহু বিচারপ্রার্থী৷ এদিনের শুনানির পর স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে কিনা সেদিকেই নজর থাকবে৷