কলকাতা: রক্ষকই ভক্ষক, মহিলার শ্লীলতাহানির ঘটনায় গ্রেফতার এক পুলিশ আধিকারিক৷ পরে আদালত থেকে জামিন পেলেও ওই পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর।

রাতের কলকাতায় রূপান্তরকামী মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগ৷ এই ঘটনায় অভিযুক্ত একজন পুলিশ আধিকারিক৷ তিনি সাউথ ওয়েস্ট ট্রাফিক গার্ডের অ্যাডিশনাল ওসি (২) পদে কর্মরত৷ নাম অভিষেক ভট্টাচার্য৷ অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ পরে আদালতে তোলা হলে জামিন পান ধৃত ওই পুলিশ আধিকারিক৷

অভিযোগ, সোমবার রাতে এক রূপান্তরকামী মহিলা ও তাঁর দুই বান্ধবী দমদম থেকে বাড়ি ফিরছিলেন৷ রাত ৮ টা নাগাদ বউবাজার থানা এলাকায় চাঁদনি চকের কাছে একটি রেস্তোরাঁয় কফি খেতে গাড়ি দাঁড় করান তাঁরা। তখনই তাঁদের গাড়ির উপর চড়াও হন অভিযুক্ত অভিষেক ভট্টাচার্য৷

গাড়ির খোলা কাঁচ দিয়ে ওই রূপান্তরকামী মহিলার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিষেক৷ গাড়িতে থাকা মহিলার ২ বান্ধবীর গায়েও হাত দেন বলে অভিযোগ৷ এখানেই থেমে থাকেননি৷ গাড়ি চালক বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর করে হাতও ভেঙে দেয় অভিযুক্ত অভিষেক। এমনকি ওই রূপান্তরকামী ও তাঁর বন্ধুদের উদ্দেশে চুমু ছুঁড়ে দেন৷ ঘটনার সময় তিনি মত্ত অবস্থায় ছিল বলে দাবি করা হয়েছে৷

ঘটনায় পরই ১০০ ডায়েল করে লালবাজারে অভিযোগ জানান নির্যাতিতারা। খবর দেন বউবাজার থানাতেও। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বউবাজার থানার পুলিশ কর্মীরা। তাঁরাই ওই রূপান্তরকামী মহিলা ও তাঁর বন্ধুদের নিয়ে বউবাজার থানায় যান। সেখানে এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রূপান্তরকামী উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য ওই রূপান্তরকামী মহিলা।

ট্রাফিক পুলিশের একাধিক আধিকারিকের দাবি, অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে এর আগেও মত্ত অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের গণ্ডগোলে জড়িয়েছিলেন৷

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।