নয়াদিল্লি: জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সিএএ আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় কাণ্ডে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত অজিত উত্তরপ্রদেশের জেওয়ার এলাকার বাসিন্দা। অজিতই জামিয়ায় গুলি চালানোর ঘটনায় ধৃত গোপালকে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করেছিল বলে দাবি পুলিশের। ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে অজিত গোপালকে একটি দেশি পিস্তল বিক্রি করেছিল।

৩০ জানুয়ারি দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সংশোধিত নাগরিকত্ব বিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর আচমকা গুলি চালায় গোপাল নামে এক কিশোর। দিল্লি পুলিশের সামনেই নাটকীয় ভঙ্গিতে গুলি চালায় গোপাল। গুলি লেগে জখম হন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র স্নাতোকত্বর শাদাব। তাঁর হাতে গুলি লাগে। তার পরে পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছতে হয়। ‌

রামভক্ত গোপাল নামে ওই কিশোর সেদিন গুলি চালানোর আগে বলছিল, ‘এই নাও আজাদি’। মহাত্মা গান্ধীর হত্যার দিনেই এমন কাণ্ড ঘটায় ওই নাবালক। ওই কিশোরের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জানা যাচ্ছে, সে গেরুয়া শিবিরের সমর্থক। বিভিন্ন অস্ত্র সমেত গেরুয়া পোশাকে তার ছবি রয়েছে।
জামিয়ায় গুলিকাণ্ডে ধৃত গোপাল বজরং দলের সমর্থক। ১০ হাজার টাকায় ওই দেশি পিস্তল কিনেছিল সে।

এদিকে, ঘটনার পরই ওই দিন গোপালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর গত কয়েকদিন ধরে গোপলকে দফায় দফায় জেরা করে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে উত্তরপ্রদেশের এক অস্ত্র সরবরাহকারীর নাম। তারপরই উত্তরপ্রদেশের জেওয়ার এলাকায় হানা দেয় পুলিশের একটি দল। গ্রেফতার করা হয় গোপালকে অস্ত্র সরবরাহকারী অজিতকে।

যদিও নিজেকে নাবালক বলে পুলিশের কাছ দাবি করেছে গোপাল। ৩০ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধীর হত্যা দিবসে জামিয়া থেকে রাজঘাট পর্যন্ত মিছিল করে আসছিলেন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনকারীরা। আচমকা সেই মিছিলে ঢুকে পড়ে গোপাল। পুলিশের সামনেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে হঠাৎই সে গুলি চালায়। গুলি চালানোর সময় তার মুখে স্লোগান ছিল, ‘ইয়ে লো আজাদি’। গোপালের ছোঁড়া গুলি গিয়ে লাগে এক আন্দোলনকারীর হাতে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

নিজেকে নাবালক দাবি করে একটি আধার কার্ড পুলিশকে দেখিয়েছে গোপাল। তারই ভিত্তিতে গুলিকাণ্ডে ধৃত গোপালকে ১৪ দিনের জন্য জুভেনাইল সংশোধন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।