স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ব্যবসায়ী প্রতুল চক্রবর্তী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতুল বাবুর স্ত্রী অদিতিকে জেরা করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। বুধবার দ্বিতীয় বারের জন্য অদিতিকে বারাকপুর আদালতে পেশ করে পাঁচ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। ফের তদন্তকারী অফিসাররা জেরা করে মৃতের স্ত্রীকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অদিতির বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছে। সেই কারণেই খড়দহ থানার পুলিশ তথ্য যাচাইয়ের জন্য অদিতিকে নিয়ে সে কোথা থেকে কত টাকা ঋণ নিয়েছিল তা জানার চেষ্টা করছে। অদিতি খুনের পর প্রতুলের আই ফোনটি স্থানীয় একটি খালের জলে ফেলে দিয়েছিল। সেই ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ। প্রয়োজনে অদিতিকে ফের সঙ্গে নিয়ে অদিতির স্বীকারোক্তি অনুসারে নতুন করে ঘটনাস্থলে যাবে পুলিশ। খুনের পর কোন খালের জলে কি কি জিনিস ফেলেছিল অভিযুক্ত তা দেখে নিতে চাইছে তদন্তকারীরা। অদিতির দাবি অনুসারে সে নিজের টাকা ফেরত না পেয়েই খুন করেছিল প্রতুলকে।

পুলিশি জেরায় অদিতি জানিয়েছে, প্রতুল বিভিন্ন সময়ে ব্যবসার কাজে টাকা লাগাবে বলে কয়েক দফায় মোট ১৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। সেই টাকা কোনভাবেই স্ত্রীকে পরিশোধ করছিল না সে। নতুন করে প্রতুল যখন অদিতির উপর টাকার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করে তখন অদিতি প্রতুলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের মার্চ এপ্রিল মাস থেকে দুজনে আলাদা থাকতে শুরু করে। অদিতি পেশায় কলকাতা এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার কর্মী ছিলেন।

প্রতীকী ছবি

তিনি পুলিশকে আরও জানায়, প্রতুলকে টাকা দিতে গিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এমনকি স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় নিজের সোনার গহনা বন্দক রেখে টাকা এনে দিয়েছিল প্রতুলকে। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার পর সেই টাকা অল্প অল্প করে স্ত্রীকে পরিশোধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রতুল। খড়দহে প্রতুলের নতুন ভাড়া বাড়িতে অদিতিকে টাকা দেবে বলেই ডেকেছিল সে। কিন্তু প্রতুল টাকা দেয়নি। ওই রাতে প্রতুল প্রচুর মদ্যপান করেছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে অদিতি।