প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা: লকডাউনের সময় শুধু আইন শৃঙ্খলা দেখা বা রক্তদানে থেমে নেই পুলিশের ভূমিকা। তাঁরা আটকে নেই বয়স্ক মানুষ বা অসুস্থদের পরিষেবা দিতে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় লকডাউনের সময় পুলিশের নিত্য নতুন সদর্থক ভূমিকা প্রতিদিন নজরে পড়তে বাধ্য।

তাঁরা এখন এরাজ্যে আটকে থাকা ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের সমস্যা দূর করতেও মানবিক ভূমিকা নিচ্ছেন। উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতের ঘটনা এর অন্যতম উদাহরণ। অসম থেমে সফট স্কিল ম্যানেজমেন্ট ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শিক্ষায় পড়তে আসা ১১জন ছাত্রী বিরাট সংকটে পড়লেও বারাসাত জেলা পুলিশের উদ্যোগে আপাতত কেটেছে প্রাথমিক অসুবিধা।

আটকে পড়া পড়ুয়ারা প্রায় সকলেই আসামের নওগা জেলার বাসিন্দা হলেও বারাসাতের নপাড়া এলাকাতে ঘর ভাড়া নিয়ে আছে। আচমকা লক ডাউন হয়ে যাওয়ার ফলে না আসছে বাড়ি থেকে অর্থ না ফিরতে পারছে বাড়ি। আর জমানো খাদ্য ও অর্থ শেষ বেড়েছে সংকট। দুএকদিন চেয়ে চিন্তে চালালেও গত কয়েকদিন ধরে খাদ্যের অভাব চরমে পৌঁছে যায়।

বুধবার রাতেই পুলিশের কাছে খবর পৌছানো মাত্র বারাসাত জেলাপুলিশ তৎপরতা দেখিয়ে ছাত্রীদের নিবাসে যায়। উপস্থিত ছিলেন বারাসাত থানার আই সি দীপঙ্কর ভট্টাচাৰ্য। পুলিশের উদ্যোগে আসাম থাকে আসা এই পড়ুয়া দের হাতে প্রায় কুড়ি দিনের চাল, ডাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য পড়ুয়ারা বারাসতের ১২ নম্বর রেলগেটের কাছে সংস্থায় পাঠরতা। তারা আসামে নিজের নিজের বাড়িতে খবর পাঠিয়ে জেনেছে এ মুহুর্তে অর্থ প্রেরণ সম্ভব নয়। বাড়ি ফেরাও সম্ভব নয়। ফলে ত্রাণ নিয়ে ভিন রাজ্যের পড়ুয়াদের খাদ্য সংকট দূর করে নিশ্চিন্ত করল সেই পুলিশ যাঁদের ভূমিকা জনসাধারনের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ক্রমেই সুদূরপ্রসারি হয়ে উঠছে।।