লিভারপুল: গত মার্চ থেকে লিভারপুল এবং সংলগ্ন অঞ্চলে মারণ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫০০-রও বেশি মানুষের। এমনিতেই গোটা যুক্তরাজ্যেই কোভিড১৯-র ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে বিগত দিনগুলোতে। তারমধ্যে লিভারপুল সংলগ্ন অঞ্চল ঘিরে ছিল বাড়তি সতর্কতা। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সমস্ত ভয়-ভীতি দূরে ঠেলে, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং’য়ের বালাই উপেক্ষা করে সারারাত আনন্দে মাতলেন লিভারপুল সমর্থকেরা।

তিন দশক পর ইংল্যান্ড সেরা হয়েছে ক্লাব। সারারাত ধরে শহরের রাস্তায় চলল দেদার হুল্লোড়, উড়ল শ্যাম্পেন, চলল নাচ-গান। দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষার পর এমন একটা দিনের অপেক্ষাতেই তো ছিলেন সমর্থকেরা। করোনা ভীতি কী করে দমিয়ে রাখবে তাদের? কিন্তু গাইডলাইন ভেঙে এক রাতের এমন বেলাগাম সেলিব্রেশনই ডেকে আনতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ। বৃহস্পতিবার রাতে লিভারপুল সমর্থকদের সেলিব্রেশনকে এককথায় তিরস্কার করে এমনটাই জানাল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

মার্সেসাইড পুলিশের চিফ কনস্টেবল রব কার্ডেন জানিয়েছেন, ‘এতো সংখ্যায় জড়ো হয়ে বেপরোয়া ভাবে সেলিব্রেশন করার সময় এটা নয়। নিরাপত্তা মেনে সেলিব্রেট করা উচিৎ ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখানে কেউ নিয়ম মেনে কিছু করেনি। সমর্থকেরা স্টেডিয়ামের বাইরে প্রচুর সংখ্যায় জড়ো হয়ে সেলিব্রেট করেছে।’ কার্ডেন আর বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা সমর্থকদের কাছে আর্জি জানাব তারা যাতে নিরাপদভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে পরিবারের মানুষের সঙ্গে সেলিব্রেশনে অংশগ্রহণ করে।’

লিভারপুলের মেয়র জো আন্ডারসন যিনি আবার একজন এভার্টন সমর্থক তিনি লিভারপুল সমর্থকদের অনুরোধ করেছেন সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে চলার। তিনি বলেছেন প্রকাশ্যে অনেকের এক জায়গায় জড়ো হওয়ার বিষয়ে এখনও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের বিষয়গুলি মেনে চলতে হবে।

বৃহস্পতিবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসি ২-১ গোলে ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে হারাতেই ১৯৮৯-৯০ মরশুমের পর ইংল্যান্ড সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নেয় লিভারপুল। আর খেতাব জয়ের পর স্কাই স্পোর্টসকে লিভারপুল বস জানান, ‘আমার কাছে প্রকাশ করার মতো সত্যিই কোনও ভাষা নেই। আমার কোচিং কেরিয়ারের খুব বড় একটা মুহূর্ত। আমি কখনও ভাবিনি এমন একটা মুহূর্ত আসবে আমার জীবনে। সেলিব্রেট করাটা এই সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই মুহূর্তগুলো কখনও ভোলার নয়। আগামীদিনে সমর্থকদের সঙ্গে আমরা প্যারাডে নামব ছবি তুলব।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ