স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বেআইনি গাড়ি পার্কিং-এর মিথ্যে অভিযোগে বর্ধমান পুরসভার অতিরিক্ত এক্সিকিউটিভ অফিসার অমিত গুহকে পুলিশের হেনস্থার শিকার হতে হয়৷ যাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিল প্রশাসনিক মহলে।

বর্ধমান জেলা প্রশাসন এবং পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পরই গোটা বিষয়টি নিয়ে উচ্চস্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্ধমান পুরসভার অতিরিক্ত এক্সিকিউটিভ অফিসার অমিত গুহ পুরসভার গাড়িতে কাজে বর্ধমান শহরের বীরহাটা সংলগ্ন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে যান। তাঁর গাড়িটিকে রাস্তার পাশে ব্যাংকের সামনে পার্কিং করা হয়। প্রায় দশ মিনিট পর তিনি ব্যাংক থেকে বেড়িয়ে এসে গাড়িতে বসতে যান৷ তখন গাড়ির চালক তাঁকে জানান, ট্রাফিক পুলিশ তাঁর গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়েছেন বেআইনি পার্কিং-এর জন্য।

অমিতবাবু জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি দেখতে পান রাস্তার অন্য দিকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ট্রাফিক ওসি চিন্ময় দে। তিনি ওসির কাছে গাড়ির চাবি ফেরত দেওয়ার আবেদন জানালে তিনি তাঁর সঙ্গে রীতিমত দুর্ব্যবহার শুরু করেন। তিনি তাঁর পরিচয় ব্যক্ত করলেও তাঁকে অশ্রাব্য ভাষা বলতে কসুর করেনি ওই ওসি। এই ঘটনার সময় সেখানে হাজির ছিলেন বর্ধমান পুরসভা নিযুক্ত ট্রাফিক কর্মীরাও। যাঁদের বেতন হয় পুরসভা থেকেই। যাদের নিয়োগও করা হয়েছে পুরসভা থেকেই।

আরও পড়ুন : ‘আমরা কিষাণ লং মার্চ করেছি, তৃণমূল ভুবনেশ্বর জেলের দিকে মার্চ করেছে’

তাঁর কথায়, তাঁকে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে চূড়ান্ত হেনস্থা করার সময় পুরসভার ওই ট্রাফিক কর্মীরা৷ এবং তাঁকে সাফ জানান তাঁরা এখন পুলিশের হয়ে কাজ করছেন। এই ঘটনার পর তিনি ডিএসপি ট্রাফিককে ফোন করেন। তিনি ওসি ট্রাফিকের সঙ্গে কথা বললেও ওসি ট্রাফিক তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন তিনি গাড়ি ছাড়বেন না। সেই সময় সেখানে হাজির হন বর্ধমান শহরের মিনিবাস টাউন সার্ভিসের সম্পাদক প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলার পর ওই গাড়িটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ইতিমধ্যে অমিতবাবু পুরসভায় ফোন করে অন্য একটি গাড়ি নিয়ে আসেন। সেই গাড়িতেই তিনি পুরসভায় ফিরে যান। অমিতবাবুর মতে, যে জায়গায় তাঁর গাড়িটিকে পার্কিং করা হয়েছিল সেটি নো পার্কিং জোন হিসাবে চিহ্নিত ছিল না। উপরন্তু তাঁর গাড়িটি রাস্তার পাশেই ছিল। এদিকে এভাবে একজন সরকারি আধিকারিক নিজের পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তাঁকে চূড়ান্ত হেনস্থা করার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিশেষ করে এই কাজে পুরসভা নিযুক্ত ট্রাফিক কর্মীরা কিভাবে পুলিশকে সহায়তা করল তা নিয়েও রীতিমত আলোড়ন পড়েছেন। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত পুরবোর্ডে মোট ৮২জন কর্মীকে নিয়োগ করা হয় বর্ধমান পুলিশকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য। এই ট্রাফিক কর্মীদের বেতনও হয় পুরসভার তহবিল থেকেই।

আরও পড়ুন : বিনা অনুমতিতে এলএলবি পড়ানোর দায়ে জরিমানা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের

বর্ধমান সদর উত্তরের মহকুমা শাসক পুষ্পেন সরকার জানিয়েছেন, তিনি গোটা ঘটনার বিষয়ে লিখিতভাবে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন অমিতবাবুর কাছ থেকে। জানানো হয়েছে জেলাশাসককেও। অমিতবাবু জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যেই মহকুমা শাসককে লিখিতভাবে রিপোর্ট দিয়েছেন। একইসঙ্গে পুরসভার পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে ওই কর্মী নিয়োগের বৈধতা নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। কিভাবে, কতদিনের জন্য এবং কি চুক্তিতে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল সে ব্যাপারেও বিস্তারিত খোঁজখবর শুরু হয়েছে৷

অপরদিকে ডিএসপি ট্রাফিক সুকান্ত হাজরা জানিয়েছেন, তিনি ঘটনার কথা শুনেছেন। এব্যাপারে দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সম্ভবত কোনো ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে। ঠিক কি হয়েছে সে ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুরসভা নিযুক্ত ওই ৮২জন কর্মীকেই বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সুষ্ঠ পরিষেবা দেওয়ার পরিবর্তে যেভাবে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নিবার হয়ে উঠেছেন এবার তাতেই রাশ টানতে চাইছেন পুর কর্তৃপক্ষ।