বারারকপুর ও কলকাতা: অস্ত্রধারী পুলিশ এবং সিসিটিভি ক্যামেরার কড়া নিরাপত্তার আঁটোসাঁটো বলয়ে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় তৈরি হচ্ছে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গনেশ।

একটি ষোলো টনের শ্বেত পাথর এবং অপরটি ১১০ কেজি ওজনের রুপোর অলঙ্কারে সাজছে স্বপরিবার উমা। শিল্পীর দাবি, কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম শ্বেত পাথরের তৈরি সপরিবার মায়ের মূর্তি দর্শন করবেন দর্শকরা পানিহাটি শহিদ কলোনির পূজা কমিটির মণ্ডপে।

জয়পুর থেকে শ্বেতপাথরের কাঁচামাল সামগ্রী নিয়ে এসে হাবড়ার শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দারের বাড়িতে ১৬ টন ওজনের মায়ের মূর্তি তৈরি করছেন তিনি। গত জুন মাস থেকে শিল্পী ও তাঁর সহকর্মীরা তৈরি করে চলেছেন মায়ের অপরূপ এই মূর্তি।

পাশাপাশি কলকাতার কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতি এবছর শতবর্ষে পদার্পণ করল। শতবর্ষে এবারের দুর্গা ‘একশোতে একশোদশ’ রুপোর প্রতিমা। অর্থাৎ ১১০ কেজি রুপা দিয়ে তৈরি হচ্ছে শতবর্ষের মাতৃ প্রতিমা। প্রতিমার আদল শান্তি রুপীনি মৃন্ময়ী হলেও একটু আধুনিকতার ছোঁয়াও থাকবে তাতে। যেমন মাথায় ঘোমটা থাকলেও দুর্গার পরনে থাকবে ঘাগরা। সবটাই রুপোর পাতের ওপর শিল্পীর নিপুণ কাজে তৈরি হয়েছে। যেখানে অসুরকে বিনাশ করে শান্তির বার্তা নিয়ে মা নিজেই দাঁড়িয়ে থাকবেন অসুরের শরীরের ওপর।

মায়ের কয়েকটি হাতে থাকবে জ্বলন্ত প্রদীপ, তবে কোনও অস্ত্র থাকবে না। মায়ের এক হাতে তিনি অভয় দান করবেন। মাতৃমূর্তি এমনই ভাবনার প্রকাশ পাবে বলে জানিয়েছেন শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার। অন্যদিকে মন্ডপ শয্যায় শিল্পী তুলে ধরবেন অপরূপ বাংলার মাকে।

শিল্পী ইন্দ্রজিৎ বলেন ১১০ কেজি রুপোর সাজে অপরূপা বাংলা মাকে দেখতে দেখতে আর মণ্ডপে ঘুরতে ঘুরতে কখন যেন হারিয়ে যাবেন রূপসী বাংলায়, হারিয়ে যাবেন সম্প্রীতির মিলন বন্ধনের এই বাংলায় এমটাই চমক থাকছেন দর্শনার্থীদের জন্য। এসব কিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমগ্র পূজামণ্ডপে থাকবে আলো-আঁধারের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা।