স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আমফান বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়লেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।গড়িয়ার কাছে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁর গাড়ি আটকায় পুলিশ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে আটকানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

আমফানে বিপর্যস্ত গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগণা। জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ, শনিবার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগে এদিন সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং ও বাসন্তী যাচ্ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

জানা গিয়েছে, ক্যানিং-বাসন্তী এলাকায় ত্রাণ বিলি ও সাধারণের সঙ্গে কথা বলার কর্মসূচি ছিল রাজ্য বিজেপি সভাপতির। সেইমতো কনভয় নিয়ে বেরিয়েছিলেন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তবে গড়িয়ার ঢালাই ব্রিজের কাছে তাঁর গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ।

আটকানোর কারণ জানতে চাওয়া হলে পুলিশ তাঁকে বলে, লকডাউন চলছে, তারউপর আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বিপদও রয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় না যাওয়া নিরাপদ নয়। এই যুক্তি দেখিয়ে দিলীপ ঘোষের গাড়ি ঢালাই ব্রিজ থেকে আর এগোতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। ব্যারিকেড করে তাঁর গাড়ি আটকানোর ফলে বাইপাসে প্রচুর যানজট তৈরি হয়েছিল। দুপুর ২টো পর্যন্ত গড়িয়া ঢালাই ব্রিজের কাছেই আটকে ছিলেন দিলীপ ঘোষ। ফলে পাটুলি পর্যন্ত গাড়ি, বাস দাঁড়িয়ে যায়। পরে অবশ্য সেসব ছেড়ে দেওয়া হলেও, দিলীপ ঘোষের গাড়ি ছাড়া হয়নি।

পুলিশের এই ভূমিকায় বেশ ক্ষুব্ধ বিজেপি রাজ্য সভাপতি। ঢালাই ব্রিজ এলাকায় এত পুলিশ দেখে তাঁর অনুমান, বারুইপুরে ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার সময় যে তাঁর পথরোধ করা হবে, সেই পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল পুলিশের। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সকলেই বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে যাচ্ছেন, বিশেষত মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেসব জায়গায় সফর করছেন। তাহলে তাঁকে কেন আটকানো হচ্ছে?

এই রাজনৈতিক অভিসন্ধিই দেখছে রাজ্য বিজেপির একাংশ।এদিকে রাজ্য সভাপতির গাড়ি আটকানোর খবরে ঘটনাস্থলে ভিড় বাড়তে থাকে বিজেপি সমর্থকদের। প্রতিবাদে আবার ক্যানিংয়ে রাস্তা অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। এরমধ্যেই পাটুলি এলাকায় তৃণমূল-বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে।