স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: কাজের টোপ দিয়ে নাবালকদের পাচার করার সময় পরিকল্পনা ব্যর্থ করল পুলিশ৷ বর্ধমান স্টেশন থেকে ভাতার থানার বেলেন্ডা গ্রামের চার নাবালককে ট্রেনে করে ভিন রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল৷

বর্ধমান শহরের স্টেশন লাগোয়া চৌধুরী বাজার এলাকা থেকে পুলিশ চার নাবালককে উদ্ধার করে। নাবালকদের পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম ছোটেলাল মাড্ডি ও লক্ষ্মী মাড্ডি। পাচারে জড়িত মাখন শেখ অবশ্য পালিয়ে যায়। ধৃতদের বাড়ি দেওয়ানদিঘি থানার ক্ষেতিয়া গ্রামে।

বর্ধমান থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চার নাবালককে ভিন রাজ্যে পাচার করা হচ্ছিল। তার আগেই তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি ভাতার থানা এলাকার। তাই নাবালকদের ও ধৃতদের ভাতার থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভাতার থানার এক অফিসার বলেন, নাবালক পাচারে আর কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে বিশদে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। নাবালক পাচারের পিছনে আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

এদিন বেলেন্ডা গ্রাম থেকে চার নাবালককে দু’টি বাইকে করে বর্ধমানে আনা হয়। বিষয়টি ভাতার থানার পুলিশের কানে পোঁছায়। এই নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়। ভাতার থানা থেকে ফোন করে বিষয়টি বর্ধমান থানায় জানানো হয়। বর্ধমান থানার পুলিশ স্টেশন এলাকায় নজরদারি শুরু করে। চার নাবালক ও তাদের সঙ্গে তিনজনকে চৌধুরী বাজার এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে বর্ধমান থানার পুলিশ। তাদের আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নাবালকরা ঘটনার কথা পুলিশকে খুলে বলে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিভাবকদের টাকা দিয়ে নাবালকদের ভিন রাজ্যে পাচার করা হচ্ছিল। অলঙ্কার তৈরির কাজের আশ্বাস দিয়ে তাদের গুজরাট অথবা তামিলনাড়ুর কোয়েবাতুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। নাবালকদের বাবাদের মোটা টাকার লোভ দেখানো হয়। অগ্রিম হিসাবে কিছু টাকা নাবালকদের বাবাদের দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।